ধর্মহীন ভোগবাদীদের সীমাহীন আমোদ ফূর্তির আরেকটি প্রকার হলো নববর্ষ অনুষ্ঠান উদযাপন। আর এর প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে মেলা।
একসময় গ্রামীন মানুষের জীবন ছিল বদ্ধ। বিশেষ করে বাড়ির ঝি-বউদের খেটে খাওয়া জীবনের বাইরে বের হওয়া বা আমোদফূর্তির সুযোগ ছিল সীমিত। সেটা কারো মধ্যে কাজ করত নিতান্তই সামাজিকতা হিসেবে। আর কেও কেও তা ধর্মের খাতিরেই আপন করে নিয়েছিল।
সুতরাং যারা শুধুমাত্র সামাজিকভাবে মেয়েদের বের হওয়া অন্যায় ভাবতো তারা এদিন গুলোতে সাজ গোজ করে বাইরে একস্থানে মিলিত হয়ে নির্মল আনন্দ ফূর্তি, কুটির শিল্প প্রদর্শনী, মিঠাই, মন্ডা, জিলাপী, কদমা, বাতাসা, পাপড়, খই, মুড়কির বেচা কেনা করত।
১৫৭৬ খ্রীষ্টাব্দে বাংলাদেশ যখন মোঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত হয় তখন সামাজিক ক্ষেত্রে ও ফসলের মৌসুমের প্রতি লক্ষ্য রেখে জমির খাজনা বা কর আদায়ের সুবিধার্থে চন্দ্রসন হিজরীর পরিবর্তে ঋতুভিত্তিক সৌরসনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা হয়। ফলে সম্রাট আকবরের নির্দেশে আমীর ফতেহ উল্লাহ সিরাজী ৯৬৩ সনে তৎকালীন জ্যোতি©বিদ্যাজ্ঞানের আলোকে সৌর মাস ভিত্তিক সৌর সন প্রচলনের প্রয়াসে ফসলী সন হিসেবে বাংলা সন উদ্ভাবন করেন। বাঙ্গালীরা পূর্ব থেকে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে। অথচ অতীতের নববর্ষ উদযাপন ও আজকের নববর্ষ উদযাপনের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। সেকালে হিন্দু-মুসলিম উভয়েই বাংলা নববর্ষ এখনকার মতো সর্বদা পহেলা বৈশাখেই পালন করত না বরং পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু করে বৈশাখের যে কোন দিন সুবিধামত সময়ে তারা পালন করত। কেউ কারো ধর্মীয় রীতি-নীতির বশীভূত হতো না। সকলেই নিজ নিজ সাতন্ত্র্য বজায় রাখত। এতে করে দুটি ভিন্ন ধর্মীয় সাংস্কৃতিক পরিচিতি সুস্পষ্ট হয়ে উঠত।
উদাহরণ স্বরূপ হিন্দুদের সব অনুষ্ঠানেই পৌত্তলিকতা একটি অপরিহার্য বিষয়। সে সূত্রে পৌত্তলিকতার অংশ হিসেবে ধন-সম্পদ প্রাচুর্যের দেবী লক্ষ্মীর পূজার আনুষ্ঠানিক নৈবদ্য হিসেবে ধান-দূবা© সন্ধ্যাপ্রদীপসহ শ্রীভ্রষ্ট নবান্ন উৎসব বৈশাখী মেলা ইত্যাদি ছিল তাদের পহেলা বৈশাখ ও নববর্ষ উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পক্ষান্তরে বাঙ্গালী মুসলমানেরা নববর্ষ উপলক্ষ্যে অশ্লীলতামুক্ত পবিত্র ভাব-গম্ভীর্যময় পরিবেশে বিভিন্ন উৎসব পালন করত। মুসলমানদের নবান্নের অনুষ্ঠানও ছিল ভিন্ন ধরনের।
নতুন আউশ ধানের চাউল দিয়ে ভাত, পিঠা বানিয়ে গরুর দুধ, বাড়ির গাছের শবরি কলা, ঘরের মুরগী, পুকুরের মাছ দিয়ে মসজিদ মাদ্রাসার আলেম-ওলামাদের ডেকে প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজন মুরুব্বীয়ানকে দাওয়াত করে খাওয়াতো। কুরআন খতম, দুআ-দরুদ পাঠ করে পবিত্র পরিবেশে নববর্ষ উদযাপিত হত।
নববর্ষ পালনকারী হিন্দুরা হিন্দুর মত করে আর মুসলমানেরা মুসলমানদের মত করে উপভোগ করত এই দিবস। এমনকি বৃটিশের বিরুদ্ধে যুব সমাজকে সংঘবদ্ধ করে বীরত্ব ও শক্তি সাহসের অনুশীলন করা হতো বিভিন্ন খেলাধুলার মাধ্যমে।
নববর্ষের যে প্রধাণ আকর্ষণ ছিল মেলা, তা কালক্রমে জীবন বিভঙ্গ কায়েমী স্বার্থবাদীদের হাতে ধরা পরে। আর যাই হোক সেকালে মেলা নামের নগ্নতা আর বেহায়াপনা ছিল না। স্বার্থবাদীদের হাতে ধরা পরার ফলে মেলার আদি উদ্দেশ্য, রঙ-ঢঙ বদলে গেছে। বর্তমানে তো পরিস্থিতি এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এসব দিনগুলোতে ঈমানদার রুচিবান মানুষেরা বাহিরে বের হতে লজ্জাবোধ করেন।
এক সময় আরবে নওরোজ-মেহেরজান উৎসব অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালন করা হত। যা ছিল ইসলামী ধর্মীয় আচার-আচরণের পরিপন্থী। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনা গিয়ে এ অবস্থা দেখতে পেলেন তার প্রতিবাদ স্বরূপ ও মুসলমানদের বিনোদনের জন্য দুই ঈদে নির্মল আনন্দ করার অনুমতি প্রদান করলেন। ঘোষণা করলেন- (১৬০৩৮- لَا تَصُومُوا هَذِهِ الْأَيَّامَ، فَإِنَّهَا أَيَّامُ أَكْلٍ، وَشُرْبٍ. (سند أحمد.رقم
অর্থাৎ: তোমরা এই দিবসগুলোতে রোজা রেখোনা কেননা এই দিবসগুলো হচ্ছে ভালো খাবারের দিন এবং আনন্দ-ফূর্তির দিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন অনুভব করলেন ইয়াহুদী-খ্রীষ্টানদের উৎসব দেখে মুসলমান আফসোস করতে পারে বা অনুষ্ঠানেই যোগ দিতে পারে তাই ফূর্তির দিন-তারিখ, নিয়মনীতি বাতলে দিলেন।
অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য আজ মুসলমানদের নববর্ষ উদযাপনের নামে বেহায়াপনার অনুশীলন এবং পৌত্তলিকতা প্রতিষ্ঠার আয়োজন চলছে। অথচ ইসলাম এসেছিল পৌত্তলিকতা নাশ করে আল্লাহর একত্বতা প্রতিষ্ঠা করতে।
এক সময় প্রতীক পূজারীরা ধর্মের নামে বর্বরতা লালন করত। হিন্দুদের নরবলী ও সতীদাহের মত নির্মম বর্বরতা সেদিনও চালু ছিল।
জাহেলিয়্যাতের যুগে আরবরা শিশু কন্যা জ্যন্ত করব দিত। দেবতার তুষ্টের জন্য রোমনদের অসংখ্য বর্বরতার একটি ছিল সদ্যপ্রসূত শিশু সন্তান ভক্ষণ করা ও পোয়াতি তথা নবজাতকের মাকে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করা। এরকম হাজারো দৃষ্টান্ত আছে অবতারবাদ ও প্রতিমা পূজার নিষ্ঠুরতম আনুষ্ঠানিকতায়।
এসব প্রতীক পূজার নিষ্ঠুরতা থেকে মানবজাতিকে মুক্তি দিতে এ ধারায় এসেছিj মানবতার মহান ধর্ম ইসলাম। ইসলাম সত্যের বাহক| আজকের তথাকথিত প্রগতীবাদীরা নববর্ষ উদযাপনের নামে জাতিকে পৌত্তলিকতার যুগ ও প্রতীক পূজার যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
কুরআন পাঠ করে অনুষ্ঠান শুরু করা হলে তা হয় সাম্প্রদায়িকতা আর মঙ্গলদ্বীপ, মঙ্গল ঘট স্থাপন করলে তা হয় প্রগতীশীল।
কলসীর কানায় যদি মঙ্গল লyকিয়ে থাকতো তাহলে এ পৃথিবীতে ঐশী কিতাবসমূহ কেন অবতীর্ণ হয়েছিল ? প্রকৃতপক্ষে এরা অসুন্দরের অশুভ শক্তির পূজারী। তাইতো এরা নববর্ষ উপলক্ষ্যে সুন্দরকে আড়াল করে অসুন্দরের মুখোশ পড়ে তথা ভয়ঙ্কর জীবজন্তুর মুখোশ পড়ে অশুভ শক্তির জানান দেয়।
বাঙ্গালী হিন্দু তাদের সনাতন ধর্মভিত্তিক পুরুষাক্রমিক সংস্কৃতির বংশে সন্ধ্যায় উলুধ্বনি করে শাখ ও কাসার ঘন্টা বাজিয়ে সন্ধ্যারতি করে। বিয়ে বা কোন শুভ অনুষ্ঠানে মঙ্গল প্রদীপ জালিয়ে এবং মঙ্গলঘট স্থাপন করে মাঙ্গলিক আচরণ করে থাকে। তারা নিকানো উঠোনে আলপনা আঁকে এবং সন্ধ্যায় তুলসি পাতায় প্রনাম জানায়।
হিন্দু নারীরা এয়োতির চিহ্ন হিসেবে সিঁথিতে সিঁদুর পরে এবং হাতে শাঁখা পরে। কিন্তু মুসলমান সমাজে কোন দিন উল্লেখিত ধর্মচারণ পালিত হত না।
বহিরাগত সেন বংশের রাজত্বকালে মঙ্গল প্রদীপের প্রচলন করা হয়। পরবর্তীতে মুসলিম শাসনামলে সভা-সমিতি ইত্যাদি অনুষ্ঠানে এ মঙ্গল প্রদীপ হিন্দু পূজার একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে গণনা করা হয়। গত কয়েক বছর যাবৎ আমাদের এদেশের কতিপয় বুদ্ধিজীবীরা প্রায়ই মঙ্গল প্রদীপ জালিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উদ্বোধন ও শুভ কাজের সূচনা করছে। মঙ্গল প্রদীপকে মুসলমান বাঙ্গালীদের কালচার হিসেবে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টাচলছে।
[হিন্দুদের ত্রিমূর্তি- ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শীব]
যা হোক, মানুষকে তো আল্লাহ তাআলা দুটো পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে- :১০وَهَدَيْنَاهُ النَّجْدَيْنِ البلد
অর্থঃ আমি তাদের দুটি পথের দিশা দিয়েছি, ভাল-মন্দ। যার যেটা ইচ্ছা গ্রহণ করবে। তবে ভালমন্দ বুঝবার ক্ষমতা সকলকেই দেয়া হয়েছে।
মানুষ তো কোন না কোন সংস্কৃতির মাধ্যমে বা সেটাকে সামনে রেখে আমোদ ফূর্তি করবেই। প্রত্যেক ধর্মেই আমোদ-প্রমোদের নিয়মনীতি রয়েছে। খোদাপ্রদত্ত মানুষের আনন্দ উপভোগের যে নীতিমালা বর্ণিত রয়েছে তা যদি মুসলমান গ্রহণ না করে বরং মানব রচিত ধর্মের নীতিমালা গ্রহণ করে তবে এটা তার জন্য কতটুকু ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে তা একটু ভেবে দেখা দরকার।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ – عن ابن عمر، قال: قال رسول الله – صلى الله عليه وسلم -:، من تشبه بقوم فهو منهم” سنن أبي داود.رقم. 4031
অর্থঃ যে যে জাতির সামঞ্জস্যতা ইখতিয়ার করবে সে সেই জাতির মধ্যে হতে গণ্য হবে। অপর এক হাদীসে আছে মানুষ যাকে ভালোবাসবে হাশর-নাশর তার সাথেই হবে। [আবু দাউদ শরীফঃ ২য় খন্ড পৃঃ ৫৫৯]
বিনোদনের নামে এ আমরা কোথায় হারিয়ে যাচ্ছি। একটি বাঘের বাচ্চাকে নাকি ছোট বেলা থেকে ছাগলের পালে রেখে দিলে সে স্বীয় সত্ত্বাকে ভুলে গিয়ে নিজেকে ছাগলের বাচ্চাই মনে করতে আরম্ভ করে।
বিবেকের কাছে একবার প্রশ্ন করুন, আপনি যে সকল অনুষ্ঠানে বিনোদনের নাম দিয়ে সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছেন আপনার পিতা-মাতা হয়তো আপনাকে এ রকম কোন বিনোদনমূলক আয়োজনে যেতে বারণ করেছেন। আপনি যান নি। কিন্তু সেই আপনিই যখন আপনার আদরের সন্তানকে হাত ধরে নিয়ে গেলেন এর দ্বারা আপনি তার কত বড় ক্ষতিসাধন করলেন, কেমন যেন জাহান্নামের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়ে আসলেন। আর যদি বলেন সভ্যতা শেখালেন তাহলে কি সভ্যতা নোংরামীর মাঝে লুকিয়ে আছে, চিন্তায় এসেছে কি? পরবর্তীতে এই সন্তানদের সন্তানগন কোথা থেকে শুরু করবে। দিন দিন তো পৃথিবীটা জাহান্নামের খন্ডচিত্র হতে চলেছে।
একজন মুসলমান হিসেবে আপনার ঈমানী দায়িত্ব এ সকল মেলায় অংশগ্রহণ না করা, সন্তানদের না পাঠানো। অন্তত: আপনি আপনার দায়িত্বটুকু পালন করেন। তাহলে আপনি তো কমপক্ষে রেহাই পাবেন। নিঃসন্দেহে বিনোদনের নামে এসকল অপসংস্কৃতির বাজার বসানো খোদায়ী গজব অবতীর্ণের বড় মাধ্যম। ভূমিকম্প, কালবৈশাখী ঝড়, টর্নেডো, সুনামী ইত্যাকার বড় বড় খোদায়ী গজব যাকে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে থাকি অথচ এগুলো আল্লাহ প্রদত্ত শাস্তির নিদর্শণ।
যদি কোন রাষ্ট্র থেকে অন্যায় অবিচার ও পাপাচারের মৌলিক বিষয়াবলী দূর হয়ে যায় তাহলে কোনদিন সে রাষ্ট্রে এমন কোন আযাব আসবে না বা সে রাষ্ট্র এমন কোন বিপর্যয়ের সম্মখীন হবে না যা সকলকে সমূলে ধ্বংস করে দেয়।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:- .( الروم.৪১)ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
অর্থঃস্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান যাতে তারা ফিরে আসে।
তাফসীরে রুহুল মাআনীতে বলা হয়েছে বিপর্যয় বলে দুর্ভিক্ষ, মহামারি, অগ্নিকান্ড, পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার ঘটনাবলীর প্রাচুর্য, সবকিছু থেকে বরকত উঠে যাওয়া, উপকারী বস্তুর উপকার কম হওয়া এবং ক্ষতি বেশি হয়ে যাওয়া ইত্যাদি আপদ বিপদ বুঝানো হয়েছে।
আয়াত থেকে জানা গেল যে, এসব পার্থিব বিপদাপদের কারণ মানুষের গুনাহ ও কুকর্ম। [তাফসীরে মাআরিফুল কুরআনঃ বাংলাঃ পৃঃ ১০৪৬]
অন্য এক আয়াতে এই বিষয়বস্তু এভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ [الشورى:৩০] وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍঅর্থঃ তোমাদের উপর যেসব বিপদ আপদ পতিত হয় তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
উদ্দেশ্য এই যে, এই দুনিয়ার বিপদাপদের সত্যিকার কারণ তোমাদের গুনাহ। যদিও দুনিয়াতে এসব গুনাহের পুরোপুরি প্রতিফল দেওয়া হয় না এবং প্রত্যেক গুনাহের কারণে বিপদ আসে না বরং অনেক গুনাহ তো ক্ষমা করে দেওয়া হয়। অন্যত্র ইরশাদ করেনঃ- أَوَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَنْ يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا ضُحًى وَهُمْ يَلْعَبُونَ [الأعراف:98]
অর্থঃ আর এই জনপদের অধিবাসীরা কি নিশ্চিত হয়ে পরেছে যে, তাদের উপর আমার আযাব দিনের বেলাতে এসে পড়বে তারা তখন থাকবে খেলা-ধূলায় মত্ত।
আবার ফিরে আসছি পূর্বের আলোচনায়। ১লা বৈশাখ আসলে বটতলায় গিয়ে তরুণিদের হাতে পান্তা খেয়ে এবং নারী-পুরুষেরা অবাধ মেলা-মেশা করে হিন্দু ধর্মীয় সংস্কৃতির অনুসরণে নববর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে তথাকথিত প্রগতিবাদীরা একদিনের জন্য বাঙ্গালী বনে যায়। বৈশাখ চলে গেলে বাংলা মাসের দিন তারিখ সম্বন্ধে কোন খবরও রাখে না। এমনকি জিজ্ঞাসা করা হয় ১লা বৈশাখ কত তারিখে। একটি হাস্যকর বিষয় আমরা বাংলাদেশী আবার বাঙ্গালী। রাষ্ট্র ভাষা বাংলার জন্য শহীদ হলো কত মানুষ। অথচ বাংলা ভাষা ও বাংলা তারিখের মাঝে আর আমাদের মাঝে কত ব্যভধান। [মাআরিফুল কুরআনঃ ১০৪৬]
প্রশ্ন হতে পারে বাঙ্গালীদের উৎসব আমরা বাঙ্গালীরা পালন করবো এতে অবৈধতার কী আছে? তাহলে প্রশ্নের উপর আরেক প্রশ্ন করি যার মাধ্যমে উত্তর হয়ে যাবে। সেটি হলো সৌদিতে যে সব হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টান আছে তারা কি কখনো মুসলমানদের নববর্ষের উৎসব পালন করেন? কিন্তু বিজাতীর অনুকরণে আমরা তা করছি।
মুসলমানদের মধ্যে আমরা যারা প্রথমত: মুসলিম পরে বাঙ্গালী, ইসলাম যাদের কাছে গৌণ সাধারণত: তারাই এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে। পরকালীন জীবনে এটা তাদের জন্য মারাত্মক ভয়ের কারণ হবে। কেননা হাদীসের ভাষ্যমতে, সাদৃশ্য হেতু হাশরও বিধর্মীদের সাথে হবে। সুতরাং ঠাকুর ঘোষদের সাদৃশ্য হেতু এজাতীয় নামধারী মুসলমানদের হাসরও তাদের সাথে হবে। (নাউযুবিল্লাহ)
আত্মবিকৃত মানুষের পরিচয় সম্পর্কে আল্লাগ তাআলা বলেনঃ[৮৮ فَذَرْنِي وَمَنْ يُكَذِّبُ بِهَذَا الْحَدِيثِ سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُونَ [القل
অর্থঃ যারা এ কুরআনকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের ছেড়ে দাও আমার হাতে তাদের এমনভাবে ক্রমে ক্রমে ধ্বংশের দিকে নিয়ে যাবো যে তারা জানতেও পারবে না। আমি তাদের সময় দিয়ে থাকি আমার কৌশল অত্যন্ত বলিষ্ঠ।
মনে রাখতে হবে আমরা মুসলমান। পহেলা বৈশাখ উদযাপন ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকার হিন্দুয়ানী-খ্রীষ্টানী অনুষ্ঠানের সাথে ইসলামের আদৌ কোন সম্পর্ক নেই। ইসলাম এরূপ বাজে আনুষ্ঠানিকতা-সর্বস্ত ধর্ম নয়, সুস্থ সুন্তর গাম্ভীর্যপূর্ণ তাহযীব-তামাদ্দুন ইসলামের বিশেষ অবদান।
ইসলামী আচার আচরণ ছেড়ে এসব জাহান্নামী উৎসব কখনো একজন মুসলমান কল্পনা করতে পারে না। তথাকথিত প্রগতীবাদী নামক দুর্গতিবাদীদের ষড়যন্ত্রে বিজাতীয় কৃষ্টি কালচারে আমরা অভ্যস্ত হতে পারি না। বাঙ্গালীত্ব ও মুসলমানিত্বের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন ও এদেশের ঐতিহ¨ অবমাননা করা বৈ কিছুই নয়। তাই নতুন বছরে আমাদের সকলকেই এই মর্মে শপথ গ্রহণ করতে হবে যে, মুসলমান আমাদের পরিচয়, আমরা রাসূলের অনুসারী, আমাদের ধর্ম ইসলাম। ইসলামের শাশত্ব কালচারের উপর কুঠারাঘাত আসবে আর আমরা কাপুরুষের মত দুচোখ মেলে তাকিয়ে থাকব তা কস্মিনকালেও হতে পারে না।