দুনিয়াটা মস্ত বড়। খাও-দাও ফুর্তি কর। চিত্তের সন্তোষ সাধনের লক্ষ্যে আজ মুসলমানরাও যেন এই বাক্যটির যথাযথ মর্যাদা ? দিয়ে চলেছে।

প্রাণীজগতের জীবনযাপন আমরা লক্ষ্য করি তাদের সারাদিনে রুটনি সাজানো হয়েছে এভাবে যে, তারা দিনের সিংহভাগ সময় খাওয়া-দাওয়াতে কাটাবে। বাকী সময়টুকু কাজের জন্তু হলে মুনিব তার দ্বারা পার্থিব কিছু কাজ করিয়ে নিবে। আর যদি কাজেi না হয় তাহলে দেখা যাবে হয়তো তারা ছুটাছুটি, খেলাধুলা করছে বা ঘুমাচ্ছে। ইবাদত বন্দেগীর প্রয়োজন তাদের নেই। অথবা কোন কানুনের অধীনেও তাদের জীবন পরিচালিত হয়না।
এবার দেখুন একটি মানুষ সেও খায়, প্রয়োজনের তাগিদে কাজ করে। সময় হলে ঘুমায় ও আনন্দ করে। তাহলে দেখা যাচ্ছে মানুষ যে কাজগুলো করছে জানোয়ারও সে সকল কাজ করছে। তাহলে জানোয়ার আর মানুষে পার্থক্য কোথায়? যদি বলা হয় মানুষ তার বিবেক বুদ্ধির মাধ্যমে উন্নতি করে চলেছে দেশ ও জাতির। প্রাণী তো পারছে না। এর প্রতি উত্তরে বলা যেতে পারে তাদের প্রয়োজন মাফিক যা দরকার তা তারা স্থায়ী প্রচেষ্টা বলে তা করেই চলেছে । প্রাণীবিদদের থেকে বিস্তারিত জেনে নিন তারা তাদের প্রয়োজন কিভাবে পূর্ণ করছে।
মূলত: আল্লাহ তাআলা  মানুষকে স„ষ্টির সেরা করে তৈরী করেছেন, আশরাফুল মাখলুকাত উপাধী দ্বারা ভূষিত করে অতিব মুল্যবান নেয়ামত জ্ঞান দান করেছেন| সেই জ্ঞানের মাধ্যমে স্বীয় প্রভুকে চিনতে পারে জানতে পারে| আনন্দ ফূর্তি যাই করি সবই যেন তার হুকুমের গন্ডির ভেতরে থেকে করি। সীমালঙ্ঘন যেন না হয়ে যায়।
মানুষ মনোরঞ্জন করতে গিয়ে অতিরঞ্জন করে ফেলে। আনন্দের যে মাপকাঠি ইসলাম প্রদান করেছে তা থেকে আজ আমরা কত দূরে।
বিনোদনের নামে নোংরামীর আরেকটি অশ্লিল দিবস হল ভ্যালেনটাইন ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। উদ্যাম, উচ্ছাস ও ভালোলাগার মানুষটিকে সর্বাধিক পছন্দনীয় জিনিসটি প্রদান করা, অবাধে গাইরে মাহরাম নর-নারীর মেলামেশা ইত্যাকার নোংরামী ও অশ্লীলতা দ্বারা সাজানো হয়েছে এই ভ্যালেনটাইন ডে। এগুলোর দ্বারা সমাজ বা রাষ্ট্র কি লাভবান হচ্ছে আমরা কি তা কখনো ভেবে দেখেছি বা ভেবে দেখার চিন্তাও করেছি। সুক্ষদৃষ্টি নয় বরং স্বাভাবিক নজরেই পারিপার্ষিক অবস্থা আমরা অবলোকন করছি আজ নতৈকি চরত্রিরে ব্যাপক অবক্ষয়। ফলে সমাজে একটি সুন্দরী নারীকে কেন্দ্র করে ঘটে যাচ্ছে কত অপ্রীতিকর ঘটনা। খুন-খারাবী পর্যন্তও পৌঁছে যাচ্ছে| যা দুর্ণীতিতে চ্যাম্পিয়ন হতে রাষ্ট্রকে সহযোগীতা করছে।
ডিশ কালচালের বদৌলতে ১৯৯৩ সাল থেকে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে দিবসটি। পূর্বে যদিও আমেরিকা ইউরোপ পর্যন্ত তা সীমাবদ্ধ ছিল। মূলত: দিবসটি পশ্চিমা জগতের নৈতিক পদস্থলনেরই আরেক নজীর।
এ দিবসটি কেন পালন করা হয় এ ব্যাপারে রয়েছে যথেষ্ট মতানৈক্য। ৫ থেকে ৬টি কারণ ইতিহাস থেকে জানা যায়। তবে নিশ্চিতভাবে কেহই বলতে পারে না কিসের উপর ভিত্তি করে দিবসটি পালন করা হয়। তবে এতটুকু সত্য যে ১৪ ফেব্রুয়ারী একটা কিছু ঘটেছিল। যাকে কেন্দ্র করে দিবসটি উদযাপিত হয়।তার সাথে আমাদের উদযাপনের কোন মিল পাওয়া যাক বা নাই যাক।
ভালবাসা চিরন্তন, ভালবাসা ছিল, আছে, থাকবে। ভালবাসা ছিল বলেই এই পৃথিবী, প্রকৃতি, মানুষসহ সৃষ্টিজগৎ রয়েছে। যদি না থাকত ভালবাসা তবে পৃথিবী হতনা এত সুন্দর, এত আবেগময়। তবে তা হতে হবে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সীমারেখার গন্ডিতে। অবৈধ প্রেম-ভালবাসার জন্য পৃথিবী নয়। এ ধরনের ভালবাসা তো পৃথিবীকে অশান্তিময় করে তোলে।
এই চিরন্তন মহৎ প্রেম-ভালবাসাকে কেন করা হচ্ছে বিতর্কিত। আসুন আমরা সবাই মিলে অবৈধ প্রেম-ভালবাসার প্রতিবাদ জানাই। অপকর্মের সয়লাবে গা না ভাসিয়ে মুসলমান হিসেবে আত্মপরিচয়টুকু ভুলে না যাই। বরং আমরা ফিরে যাই কালজয়ী ইসলামী আদর্শের দিকে, যেখানে লুকিয়ে আছে অনাবিল সুখ-শান্তি, মায়া আর মমতা।
Share: