ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম অলৌকিক ও যুগান্তকারী এক অবিস্মরণীয় ঘটনা হলো ‘মেরাজ’। লক্ষাধিক নবী ও রাসূলের মধ্য থেকে আল্লাহ তা‘আলা কেবল আমাদের নবীকেই এই অপার্থিব সম্মানে ভূষিত করেছেন।
‘মেরাজ’ এর পরিচয় এক কথায় এভাবে দেয়া যায়—,“বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কর্তৃক সশরীরে সজ্ঞানে জাগ্রত অবস্থায় হযরত জিবরীল আ. এর সঙ্গে বিশেষ বাহন বোরাকের মাধ্যমে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা হয়ে প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান ও সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত এবং সেখান থেকে ‘রফরফ’ বাহনে আরশে আজীম পর্যন্ত ভ্রমন; মহান রাব্বুল আলামীনের দিদার লাভ এবং জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন করে ফিরে আসা”। [আশ শিফা: ২০৩]
মেরাজের এই সফরটি দু‘টি অংশে বিভক্ত। ১.মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, এই অংশটিকে ইসরা বলা হয়। ২.মসজিদুল আকসা হতে উর্ধ্বজগত অভিমুখে। এই অংশের সফরকে মেরাজ বলা হয়। সফরের পুরো প্রক্রিয়াটি এক রাতের সামান্য অংশেই সমাপ্ত হয়। [সীরাতে মুস্তফা: ১/২৮৫]
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা এর বর্ণনা এভাবে করেছেন-“তিনি মহান ও মহিমাময়; যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসার পথে ভ্রমণ করিয়েছেন,যার চারপাশ বরকতময়; তাঁকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা”। [সুরা ইসরা-১]
মেরাজের প্রেক্ষাপট:
রাসূল ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এর মাক্কী জীবনের শেষভাগে সংঘটিত হয়েছিলো মেরাজের ঘটনাটি। সে সময়ের ঘটনা প্রবাহের সাথে মিরাজের রয়েছে একটি গভীর যোগসূত্র। কারণ রাসূল ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এর মক্কার যিন্দেগীটা ছিলো খুবই ভয়াবহ ও দুর্যোগপূর্ণ। নির্যাতন, নিপীড়ন, চারপাশের মানুষের মিথ্যা অপবাদ ও অবাধ্যতা তাঁর জীবনটাকে দুর্বিষহ করে তুলেছিলো। একদিকে দীর্ঘ ৩টি বছর তিনি ও তাঁর সাথী-সঙ্গীরা শিআবে আবি তালিব (আবু তালিব উপত্যকায়) সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ থাকেন। [আল খাসায়িসুল কুবরা: ১/২৫১]
অপরদিকে অল্পদিনের ব্যবধানে তাঁর একমাত্র অভিভাবক চাচা আবু তালিব ও দুঃখ-কষ্টের সময়ের জীবনসঙ্গীনী প্রিয়তমা খাদিজা রাযি. পরপারে পাড়ি জমান। এহেন পরিস্থিতিতে চিন্তায়, কষ্টে ও মানসিক যাতনায় মক্কার ভূমি তাঁর কাছে ক্রমশ: সঙ্কীর্ণ হয়ে আসছিল। রাসূল ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এক বুক আশা নিয়ে দাওয়াত দিতে গেলেন তায়েফে । কিন্তু তায়েফবাসী দাওয়াত তো কবুল করলোই না,বরং মহানবী ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কে আহত ও রক্তাক্ত করলো।
এমনি একটি সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় যখন রাসূল ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এর জাগতিক সব অবলম্বন হাতছাড়া, যখন তিনি মক্কাবাসীর ঈমান গ্রহণের ব্যাপারে নিরাশ, যখন গোটা আরব তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ, যখন তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে, চরম দুঃখ-কষ্টে যিনি তার অন্তরে স্বস্তির পরশ বুুলিয়ে দিতেন এবং আশার বাণী শোনাতেন সেই প্রিয়তমাও যখন পরপারে — ঠিক তখন প্রিয় হাবীব ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কে তাঁর মহান প্রভূ সান্তনা দেয়ার জন্য এবং রিসালাতের কঠিন কাজ আঞ্জাম দানে তাঁকে আরো দৃড়পদ করার জন্য তাঁর পরম সাণ্যিধ্যে নেওয়ার ব্যাবস্থা করলেন।মহান প্রভুর নৈকট্য লাভে তিনি ধন্য হলেন, অসংখ্য নিদর্শন দর্শনে তিনি হিকমত ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ হলেন।
মেরাজের উদ্দেশ্য :
ইসরা ও মেরাজের এই ঘটনা নবী জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়, নবীজীর রিসালাতের অনেক বড় মু‘জেযা আর উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য আল্লাহ প্রদত্ত একটি বড় নে‘আমত। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা যেমন প্রিয় নবী ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এর সম্মান আরো বৃদ্ধি করেছেন, তেমনি তাঁর উচ্চমর্যাদা সম্পর্কে অবগত করেছন সৃষ্টিজগতকে। এই ঘটনায় একদিকে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও নির্দেশনা, অন্যদিকে এর পিছনে রয়েছে অসংখ্য ইলাহী হিকমত ও রহস্য। আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন তাঁর প্রিয় হাবীবের শানে এই অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছেন কয়েকটি মহান মাকসাদ ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে যা কুরআন হাদীস ও সমকালীন প্রেক্ষাপটের আলোকে প্রতীয়মান হয়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে— সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা ও চরম সঙ্কটাপন্ন মুহুর্তে প্রিয়নবী ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কে সান্তনা প্রদান করা, যাতে তাঁর মানসিক প্রশান্তি ও মনোবল বৃদ্ধি পায় এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ব্যাপারে আশাবাদ তৈরি হয়। [আসসীরাতুন্নাবাবিয়্যাহ: ২১৭, খাতামুন্নাবিয়্যীন: ১/৪১৪]
রাসূল ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কে আল্লাহর কুদরতে কামেলার বিস্ময়কর সব কীর্তিকলাপ ও নিদর্শনাবলী তথা মহাকাশ, বেহেশত ও দোযখ, সিদরাতুল মুনাতাহা, আরশে আযীম প্রভৃতি সচক্ষে অবলোকন করানো, যাতে তিনি পরিপূর্ণ হিকমত ও প্রজ্ঞার সাথে প্রবল আত্নবিশ্বাস নিয়ে ইসলামের মর্মবাণী প্রচার করতে পারেন। [শরহুয যারকানী: ৮/৪২, সীরাতে ইবনে হিশাম: ২/১০, আল খাসায়িসুল কুবরা: ১/১৫২]
নবুওয়াতের স্বপক্ষে এক বিরাট আলামত ও জ্বলন্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা এবং এর মাধ্যমে ঈমানদারদের যাচাই ও পরীক্ষা করা। [সূরা ইসরা: ৬০]
মসজিদে আকসায় নবীকুলের ইমামতি করার দ্বারা সমস্ত নবী রাসূলের উপর রাসূল ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এর শ্রেষ্ঠত্ব বিধান ও এরই মধ্য দিয়ে পরোক্ষভাবে রিসালাহ বা আসমানী বার্তার পরিসমাপ্তির ইঙ্গিত দেওয়া। পাশাপাশি মক্কা ও বাইতুল মুকাদ্দাসকে এবং মসজিদে হারাম ও মসজিদে আকসাকে একই সূত্রে আবদ্ধ করা। [শরহুয যারকানী: ৮/৪২, সীরাতে ইবনে হিশাম: ২/১০, আল খাসায়িসুল কুবরা: ১/১৫২]
রাসূল ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এর রিসালাতের সর্বকালীনতা ও সর্বজনীনতার প্রতি ইঙ্গিত করা। সেই সাথে সব নবীর উম্মতের উপর আখেরী নবীর উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত করা। [আসসীরাতুন্নাবাবিয়্যাহ: ২১৮-২১৯]
এ ধরনের আরো বিভিন্ন হিকমত ও উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা‘আলা মেরাজের ঘটনা সংঘটিত করেছিলেন যেগুলো দ্বারা এটাও বুঝে আসে যে, মেরাজ কোন স্বপ্ন ছিলো না বরং মহান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় সশরীরে বাস্তবেই এটা হয়েছিলো।

মেরাজের সংক্ষিপ্ত ঘটনা :
মেরাজ সম্পর্কিত মূল ঘটনাটি কয়েকটি সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তবে মেরাজের ঘটনা কখন সংঘটিত হয়েছিল এব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে শুধু এতটুকুই পাওয়া যায় যে, মেরাজের ঘটনা হিজরতের এক বা দেড় বছর আগে সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু মাস, দিন তারিখের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কোন দলীল নেই। যদিও সাধারণ জনগণের মাঝে প্রসিদ্ধ হল রজব মাসের ২৭ তম তারিখে সংঘটিত হয়েছিল। [আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ ও শরহুল মাওয়াহিব: ৮/১৮-১৯]
মিরাজের ঘটনায় ব্যাবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন হযরত জিবরাঈল ও মীকাঈল আঃ। [আল খাসায়িসুল কুবরা: ১/২৮৩] তারা ঐ মহান রাতে উম্মে হানীর ঘরে মতান্তরে কাবার হাতিমে শায়িত প্রিয়নবী ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কে ঘুম থেকে জাগালেন এবং উযু করালেন। অতঃপর মহাভ্রমণের উপযোগী করার লক্ষ্যে তারা আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় নবীজী ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এর ‘সিনা চাক’ করলেন। এরপর তারা বোরাক নামক দ্রুতগামী বাহনে মুহূর্তের মধ্যে তাঁকে বাইতুল মুকাদ্দাস নিয়ে গেলেন। সেখানে প্রিয়নবী ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ‘ইমামুল মুরসালীন’ হিসেবে সকল নবী রাসূলের জামা‘আতে ইমামতি করেন। এরপর সবাইকে সালাম করে পুনরায় বোরাকে চড়ে সপ্তাকাশ পরিভ্রমন করেন। প্রতিটি আসমানে বিশিষ্ট নবীদের সাথে তার বিশেষ মোলাকাত হয়। প্রথম আসমানে হযরত আদম (আ.), দ্বিতীয় আসমানে হযরত ঈসা (আ.) ও ইয়াহয়া (আ.),তৃতীয় আসমানে হযরত ইউসুফ (আ.), চতুর্থ আসমানে হযরত ইদরীস (আ.), পঞ্চম আসমানে হযরত হারুন (আ.), ষষ্ঠ আসমানে হযরত মুসা (আ.) এবং সপ্তম আসমানে হযরত ইবরাহীম (আ.) এর সঙ্গে মহানবী ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এর সাক্ষাত হলে পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সপ্তম আসমানে অবস্থিত বাইতুল মা‘মুরে তিনি অসংখ্য ফেরেশতাকে তাওয়াফরত অবস্থায় এবং অনেককে সালাত আদায় করতে দেখেন। এরপর তিনি জিবরাঈল (আ.) এর সঙ্গে বেহেশত ও দোযখ পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া আলমে বারজাখের অসংখ্য দৃশ্যাবলী স্বচক্ষে অবলোকন করে এক পর্যায়ে সিদরাতুল মুনতাহায় উপনীত হন।তারপর নবী করীম ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ‘রফরফ’ নামক বিশেষ বাহনে আরোহন করে রাব্বুল আলামীনের অসীম কুদরতে কল্পনাতীত দ্রুতবেগে আরশে আযীমে গমণ করেন। সেখানে আল্লাহ তা‘আলার সঙ্গে হযরত মুহাম্মাদ ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এর দিদার ও কথোপকথন হয়। তিনিই একমাত্র মহামানব যিনি এ সফরের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার একান্ত সান্নিধ্যে যান।
রাসূলুল্লাহ ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য, সান্নিধ্য ও দিদার লাভ করার পর জ্ঞান-গরিমায় মহিয়ান হয়ে তাঁরপ্রশংসা ও গুনকীর্তন করেন এবং করুনা ও শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরুপ পুরস্কার হিসেবে আল্লাহর বান্দাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে ওই রাত ও ঊষার সন্ধিক্ষণে আবার মক্কায় নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন। [বুখারী শরীফ: হাদীস নং ৩৮৮৭, মুসলিম শরীফ: হাদীস নং ১৬২, ফাতহুল বারী: ৭/২৫০, ২৫৯, শরহুয যারকানী: ৮/৪২, সীরাতে ইবনে হিশাম: ২/১০, আল খাসায়িসুল কুবরা: ১/১৫২]
মেরাজের তাৎপর্য ও শিক্ষা :
শবে মেরাজের এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা কাহিনীই নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি অত্যন্ত তাৎপর্যবহ ও পরম শিক্ষনীয় একটি নিদর্শন।
কারণ শবে মিরাজে ঊর্ধ্বলোকের উচ্চতম স্থানে মহান সৃষ্টিকর্তার পরম ও নিবিড় সান্নিধ্যে থেকে রাসুলুল্লাহ ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ তাঁর উম্মতের জন্য তিনটি মহৎ উপহার নিয়ে আসেন, যেগুলো এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরাট তাৎপর্য ও গুরুত্ব বহন করে। মিরাজের উপহার সম্পর্কে বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে যে মিরাজের রজনীতে নবী করীম ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কে তাঁর উম্মতের জন্য কয়েকটি জিনিস প্রদান করা হয়-
প্রথমত: পাঁচ ওয়াক্ত নামায; যা মুমিনের জন্য মেরাজ ও ঈমানের অঙ্গ।
দ্বিতীয়ত: সূরা বাকারার শেষ ক‘টি আয়াত, যেখানে ঈমান-আনুগত্য এবং দু‘আ উল্লেখিত হয়েছে।

তৃতীয়ত: শিরক থেকে বেঁচে থাকার তাকিদ এবং এর বিনিময়ে মাগফেরাত লাভের সুসংবাদ। [মুসলিম শরীফ হাদীস নং ২৮৯/১৭৩]
মেরাজের শিক্ষার অনেক বড় একটা দিক হলো, আখেরাতের শাস্তি ও পুরস্কারের ওই সব দৃশ্য যা রাসুলে কারীম ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কে দেখানো হয়েছে। যেসব নেক আমলের পুরস্কার ও যেসব গুনাহের শাস্তির দৃশ্য নবীজীকে দেখানো হয়েছে বিশেষভাবে সেগুলোকে নির্বাচন করার হেকমত বোধ হয় এই যে, আখলাক ও কর্মের দুরস্তি এবং সমাজ ও পরিবেশের সংশোধনের বিষয়টি এই সব নেক আমলের প্রচার প্রসার এবং ওই সব গুনাহ বিলুপ্ত হওয়ার উপরই নির্ভরশীল। অতএব, আমাদের করণীয় হলো, মেরাজের এই ঘটনাকে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন ও নবুওতের বিশেষ আলামত হিসেবে নিঃশঙ্কচিত্তে বিশ্বাস করা এবং মেরাজের ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে রাসূলুল্লাহ ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এর সুমহান জীবনাদর্শ আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, জাতীয় ও রাজনৈতিক জীবনে বাস্তবায়ন করা। তাহলেই বিশ্বমানবতার সর্বাঙ্গীণ সুখ-শান্তি, উন্নয়ন-সমৃদ্ধি ও মুক্তি সম্ভব হবে।

 

মুফতী শফীকুর রহমান
মুদাররিস, জামি‘আ রাহমানিয়া, মুহাম্মদপুর, ঢাকা।

Share: