ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা মহান বাব্বুল আলামীনের যিনি ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী চলাকে মানুষের জন্য অনুকূল করেছেন।
দরুদ ও সালাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যিনি বিধি বিধানকে খুলে খুলে বর্ণনা করেছেন। আর নববী শানের খেলাফ নয় এমন সবই বাস্তবে করে দেখিয়েছেন।
পরিপূর্ণ রহমত বর্ষিত হোক আহলে বাইত ও সত্যের মাপকাঠি সাহাবায়ে কেরামগণের উপর যাদের কুরবানী ও ত্যাগের বদৌলতে ইসলাম বিশ্বের আনাচে কানাচে বিস্তৃতি লাভ করেছে।
ইসলাম কোন আনন্দ বিনোদন বিহীন শুষ্ক জীবন ব্যবস্থার নাম নয়। ইবাদতের পাশাপাশি রয়েছে বৈধ বিনোদনের ব্যবস্থা। বৈরাগ্যতা ও চরমপন্থা কোনটির স্থান এখানে নেই। বরং ইসলাম হচ্ছে সর্বকালের সকলের জন্য প্রযোজ্য মধ্যমপন্থী জীবন ব্যবস্থার নাম। এ বৈশিষ্ট্য কেবলমাত্র ইসলামেই পাওয়া যায়।
তা সত্ত্বেও সমাজে খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদন সম্পর্কে ভিন্নমতাদর্শীর লোক পাওয়া যায়। এক শ্রেণীর লোক যাদের মতাদর্শ হল ইসলাম একটি বিনোদন বিহীন জীবন ব্যবস্থা। খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের স্থান এখানে নেই।
পক্ষান্তরে অপর শ্রেণী খেলাধুলা ও বিনোদনকে জীবনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিনত করেছে। যার সঙ্গে ইসলামের কোন যোগসাজেশ খুঁজে পাওয়া যায় না।
মূলত: দুটি শ্রেণীই প্রকৃত সত্যের দুই মেরুতে অবস্থান করেছে। দুটি মতই ভ্রান্ত। ইসলাম এ দুইয়ের মাঝে। তাতে যেমন রয়েছে নিষ্কলুষ বিনোদনের উত্তম ব্যবস্থা, তেমনিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে খেলাধুলায় অতিমত্ততা ও বিকৃত বিনোদন।
আনন্দ ও ইবাদতের সমষ্টি ইসলাম। তাই বৈধ খেলাধুলা ও শরীয়ত সম্মত বিনোদন এ দুয়ের মাধ্যমে চিত্ত প্রফুল্ল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে করে উদ্যমতা বজায় রেখে গাফলতী আর অলসতা দূর করে ইবাদত বন্দেগীতে আত্মনিয়োগ করতে পারা যায়। উক্ত বিষয়গুলোকে বক্ষমান এ প্রবন্ধে তুলে ধরার প্রয়াস চালানো হয়েছে। সাথে সাথে কুরআন , হাদীছ ও ফিক্বহের আলোকে বিধিবিধানগুলোও আলোচনা করা হয়েছে।আল্লাহ্ তাআলা আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস কবুল করুন, হেদায়াতের উছিলা বানিয়ে দিন। আমীন!

—চলমান

Share: