রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের বার্তা নিয়ে আসা রমযান নিঃসন্দেহে অন্যান্য মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাপূর্ণ। এ মাসের অর্জিত জ্ঞান অন্য সকল মাসে প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের জীবন সুন্দর ও আলোকিত হয়ে ওঠে। ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে আমাদের জীবনে রমযানের গুরুত্ব ও ফযীলত অনেক বেশি। এ পবিত্র মাস মানুষকে সকল রকম গর্হিত ও অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখে এবং সকলকে সাধ্যমত ইবাদাত বন্দেগী করার জন্য উৎসাহিত করে। এই একটি মাসের অপেক্ষায় চাতকের ন্যায় তাকিয়ে থাকেন আল্লাহর নৈকট্যকামী বান্দাগণ। অসংখ্য অগণিত নেকী উপার্জনের এমন সুবর্ণ সুযোগ অন্য মাসে পাওয়া যায় না। তাই রমাযানের মাসব্যাপী রাত-দিন চলে সিয়াম-ক্বিয়ামের মহাসাধনা। তারাবীহ্ এর নামাযে পবিত্র কুরআন খতম করা, নিজে পড়া শুনা এক বিশাল সৌভাগ্যের বিষয়।
পবিত্র কুরআন নামাযে দাঁড়িয়ে তিলাওয়াত করলে প্রতিটি হরফে একশত নেকী। বসে তিলাওয়াত করলে পঞ্চাশ নেকী। নামাযের বাইরে উযূর সাথে তিলাওয়াত করলে পঁচিশ নেকী আর উযূ ছাড়া প্রতিটি হরফে দশ নেকী পাওয়া যায়। উপরন্তু রমাজান মাস হলে সত্তর গুণ সাওয়াব বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ মাসে রয়েছে শবেক্বদরের মতো মূল্যবান একটি রজনী। এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম ওই রাতের ইবাদত। ওই রাতের তারাবীহ্তে যে তিলাওয়াত হবে তার সাওয়াব এক হাজার মাসের তিলাওয়াত অপেক্ষা অধিক। একজন হাফেযে কুরআনের পক্ষেই কেবল সম্ভব নামাযের মাঝে পূর্ণ কুরআন খতমের সাওয়াব অর্জন। যারা হাফেয নয়, তাদের পক্ষে ঐ সাওয়াব অর্জন সম্ভব না হলেও হাফেযের পেছনে দাঁড়িয়ে শ্রবণের সাওয়াব তারা অর্জন করতে পারে। এভাবে মাহে রমাযানে সিয়াম-ক্বিয়ামের সাধনায় সকলে যুক্ত থাকতে পারে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কিছু পার্থিব স্বার্থ এসে বাধ সাধে মাহে মোবারকের এই সাধনা-মুজাহাদার মাঝে। একদল সরলমনা, দ্বীন-দরদি ভাই হাফেয সাহেবদের প্রতি দয়াবান হয়ে তাদের জন্য সব উজার করে দিতে উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। অপরদিকে একদল হাফেয ভালো আর বড়লোকের মসজিদে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। ইন্টারভিউ দেন আর নানা তদবীরের আশ্রয় নেন। এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতার ফলে মাহে রমাযানের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে কি না, তারাবীহ্ এর হাফেযদের কেন্দ্র করে লেন-দেনের ফলে কুরআনের মতো নে‘আমতের নাশুকরী হচ্ছে কি না? একটু ভেবে দেখা দরকার। যে হাফেয সাহেবের ওয়াসিলায় সাধারণ মুসল্লীগণ অসংখ্য-অগণিত নেকী কামাই করতে সক্ষম হলেন তাঁর কাছে চির ঋণী থাকাটাই স্বাভাবিক। সরলমনা মুসল্লীগণ মনে করেন, হাফেয সাহেব একটি মাস আমাদের জন্য কষ্ট করলেন এখন যদি আমরা তাঁর জন্য কিছুই না করি, তাহলে আমাদের ওপর হাফেয সাহেবের দাবি থেকে যাবে। আমরা তাঁর কাছে ঋণী থেকে যাব। তাই এই ঋণ পরিশোধ করতে চাঁদা তুলে হাদিয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন।
কিন্তু সরলতার কারণে হয়তো তারা এ কথা ভাবেনা যে, কিসের ঋণ কী দিয়ে পরিশোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অসংখ্য নেকীর ঋণ কয়েক হাজার টাকা দিয়ে পরিশোধের চেষ্টা কি অবমাননার শামিল নয়? একটি মাত্র নেকীর জন্য অনেকের জান্নাতে প্রবেশ স্থগিত হয়ে থাকবে। দ্বারে দ্বারে, জনে জনে ধরনা দিয়েও সেদিন একটি মাত্র নেকী জোগাড় করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। তাহলে হাফেয সাহেবের ঋণ পরিশোধের দুঃসাহসিকতা কেন? সব ঋণ কি পরিশোধ করা যায়? মায়ের দুধের ঋণ, শিক্ষকের ঋণ, অথবা মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের ঋণ কি কেহ শোধ করতে পারবে? বস্তুত এসব ঋণ শুধু স্বীকার করে কৃতজ্ঞ হতে হয়, কখনো শোধ করা যায় না। তারাবীহ্ এর হাফেযদের ঋণও এর চেয়ে চড়া মূল্য রাখে, দুনিয়াতে যার কোনো তুলনাই হতে পারে না। এ ঋণ আজীবন স্বীকার করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। শোধ করা যাবে না। তাঁদের জন্য দু’আ করতে হবে ‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’। আর বাস্তবেও আল্লাহ
তা’আলার পক্ষেই কেবল সম্ভব তাদের যথাযথ প্রতিদান দেওয়া। হাফেয সাহেবদের কষ্টের বিনিময়ে কিছু দেওয়ার মানসিকতা তাদের প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং ধৃষ্টতার শামিল। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি সহজে বুঝে আসতে পারে। একজন কৃষক দু-মুঠো অন্ন জোগাড়ের জন্য জমিতে হাঁড়ভাঙা মেহনত করে আর এ মেহনতকেই সে একমাত্র চলার মাধ্যম মনে করে। অপরদিকে কৃষিমন্ত্রী এসি রুমে বসে বসে সরকারি দায়িত্ব পালন করেন, কায়িক পরিশ্রম কাকে বলে তার সংজ্ঞাও হয়তো তিনি জানেন না। এখন যদি ঐ কৃষক মনে করে মন্ত্রী মহোদয় বেচারা কোনো কাজ-কর্ম করেন না, হাল জোত বায় না, তিনি খাবেন কী করে? তাঁর জন্য আমাদের কিছু করা উচিত। তাঁর কষ্টের বিনিময় না দেওয়াটা হবে চরম অমানবিক। কৃষকের এমন ভাবনাকে কিভাবে মূল্যায়ন করা হবে? এটা কি মন্ত্রীর প্রতি দয়ার প্রকাশ নাকি মন্ত্রীর শানে বেয়াদবী? সরকারের সামান্য সুযোগ-সুবিধাভোগী মন্ত্রীর ব্যাপারে যদি এমন ভাবনা গ্রহণযোগ্য না হয় তবে একজন হাফেযে কুরআনের ব্যাপারে তা গ্রহণযোগ্য হবে কী করে? কুরআনের হাফেযের সম্পর্ক তো দুনিয়ার অস্থায়ী সরকার বা রাজা-বাদশাহর সাথে নয়, বরং তার সম্পর্ক সকল রাজাধিরাজের সাথে। কুরআন যার কালাম সেই মহান রাব্বুল আলামীনের সাথে।
হাদীস শরীফে বলা হয়েছে—
عن انس رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان لله اهلين من الناس قالوا من هم يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اهل القرآن هم اهل الله وخاصته
অর্থ: হযরত আনাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিছু লোক আছে, যারা আল্লাহর খাস পরিবারস্থ’ লোক। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? হুযূর (সা.) বললেন, কুরআন ওয়ালারাই আল্লাহর পরিবারভুক্ত খাছ লোক। (ইবনে মাজাহ)
অতএব, হাফেযে কুরআন, যে ত্রিশ পারা কুরআন বক্ষে ধারণ করে সদাসর্বদা উহার চর্চায় লিপ্ত থাকে, নিঃসন্দেহে সে আল্লাহ্ তা‘আলার আহাল তথা খাছ বান্দা। দুনিয়ার সর্বোচ্চ পদের অধিকারীর চেয়েও যে তার মূল্য বেশি, এটা বলাই বাহুল্য। তাই হাফেয সাহেব চলবেন কিভাবে? খাবেন কী? এমন ভাবনা তাঁর প্রতি অবজ্ঞা ও দৃষ্টতার অন্তর্ভুক্ত। আবার সামান্য কিছু টাকা দিয়ে অনেক হয়েছে মনে করা আরো মারাত্মক বেয়াদবী। যে কুরআনের ওয়াসীলায় সারা দুনিয়ার মাখলূক খাচ্ছে, সেই কুরআন কি স্বয়ং কুরআনের ধারক-বাহককে খাওয়াবে না?
অপরদিকে কিছু আত্নভোলা হাফেয নিজের মূল্য বুঝতে না পেরে বিভিন্ন হীলা-বাহানার আশ্রয়ে খতমে তারাবীহ্ এর পারিশ্রমিক গ্রহণ করে চলছে। শরী‘আতে যার কোনো অনুমতি নেই। এতে করে তারা আল্লাহর রোষানলে পতিত হচ্ছে। উচিত তো ছিল পার্থিব স্বার্থ ত্যাগ করে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের কাছে প্রতিদান প্রত্যাশা করা এবং তাতেই তুষ্ট থাকা। সরকারের মন্ত্রীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সন্তষ্ট থাকতে হয়। জনগণের সেবা করে জনগণের কাছ থেকে কিছু নিলে তা উৎকোচ হিসেবে গণ্য হয়। তদ্রূপ হাফেয সাহেবও মুসল্লীদের যে অতিরিক্ত সাওয়াবের ব্যবস্থ করে দিলেন এর বিনিময়ে মুসল্লীদের কাছ থেকে কিছু নিতে পারেন না। তারাবীহ্ এর নামায তো ছোট ছোট সূরা দিয়ে পড়ে নিলেও আদায় হয়ে যায়। গুনাহ হয় না। কুরআন খতমে শুধু অতিরিক্ত সাওয়াব মেলে, যা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক বিষয়। এমন ঐচ্ছিক ইবাদতের পারিশ্রমিক আদান-প্রদান শরী‘আতে বৈধ নয়। আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয়টি বুঝার সুবিধার্থে এ কথা স্মরণ রাখা দরকার যে, তারাবীহ্ এর মাঝে তিনটি দিক রয়েছে এবং প্রতিটির হুকুমও ভিন্ন। এখানে শুধু একটি দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে মূল আলোচ্য বিষয় বুঝার সহায়ক হিসাবে বাকী দু’টি উল্লেখ করা হলো।

১. তারাবীহ নামাযের হুকুম।

২. জামা’আতের সাথে আদায়ের হুকুম।

৩. তারাবীহতে পূর্ণ কুরআন খতমের হুকুম।

তারাবীহ নামাযের হুকুম: রমাযানের প্রতি রাতে বিশ রাকা’আত তারাবীহ্ এর নামায আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্। এতে ন্যূনতম তিন আয়াত বা ছোট ছোট সূরা দিয়ে পড়ে নিলেও ওই সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। এ

ক্ষেত্রে ফক্বীহদের উক্তি নিম্নরূপ:

التراويح مسنة مؤكدة المواظبة الخلفاء الراشدين للرجال والنساء اجماعا (الدر المختال مع الرد)

খোলাফায়ে রাশেদীনের পাবন্দীর সাথে আদায়ের ভিত্তিতে এ বিষয়ে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, তারাবীর নামায নারী-পুরুষ সকলের জন্য সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্। (আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৩)

لو قرأ ثلاثا فصاعدا أو آية طويلة في الفرض فقد احسن ولم يسئ فما ظنك بالتراويح

যদি কেউ ফরয নামাযে ছোট তিন আয়াত বা বড় এক আয়াত তিলাওয়াত করে তার নামায হয়ে যায়, কোনোরূপ গুনাহ হয় না। তাহলে তারাবীহ্ও এভাবে হয়ে যাবে, যা বলার অবকাশ রাখে না।

জামা’আতের সাথে আদায়ের হুকুম: তারাবীহ্ এর নামায মসজিদে জামা’আতের সাথে আদায় করা সুন্নাতে কেফায়া। মূলত নামাযটি হচ্ছে সুন্নাতে আইন নারী-পুরুষ যে কেউ তা ছেড়ে দিলে গুনাহগার হবে। পক্ষান্তরে জামা’আতের সাথে তা আদায় করা সুন্নাতে কেফায়া হওয়ায় একদল লোক মসজিদে আদায় করে নিলে বাকীরা ঘরে পড়লে গুনাহগার হবে না। তবে জামা’আতের ফযীলত থেকে বঞ্চিত হবে। হ্যাঁ, যদি মহল্লার মসজিদে তারাবীহ এর জামা’আতই না হয় তবে একাকী আদায় করলেও জামা’আত তরকের গুনাহ হবে। আল্লামা শামী (রহ.) এভাবেই মাসআলাটি ব্যক্ত করেছেন।

قوله والجمعاعة فيها سنة على الكفاية الى افاد ان أصل التراويح سنة عين فلو تركها واحدة كره ، خلاف صلاتها بالجماعة الها سنة كفاية فلو تركها الكل اسالوا (فتاوی شامی (٤٥/٢)

এখান থেকে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, পাঞ্জেগানা নামাযের জামা’আতের সাথে তারাবীহ্ এর জামা’আতকে তুলনা করা যাবে না। ফরয নামাযের জামা’আতের ব্যাপারে শরী’আতে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তারাবীহ্ এর ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয়নি। ফরয নামায মসজিদের জামা’আতের সাথে আদায় করা ওয়াজিব। পক্ষান্তরে তারাবীহ্ এর নামাযের জামা’আত সুন্নাতে কেফায়া। সাহাবায়ে কেরামের সমাজে ফরয নামাযের জামা’আত তরক করাকে মুনাফেকীর লক্ষণ মনে করা হতো। পক্ষান্তরে তারাবীহ্ এর নামায ঘরে আদায় দোষের ছিল না। সাহাবাদের অনেকে নিজ গৃহে তারাবীর নামায আদায় করতেন।
তারাবীহ্তে কুরআন খতম :
তারাবীহ্ এর নামায একাকী বা জামা’আতের সাথে যেভাবেই পড়া হোক ছোট ছোট সূরা দিয়েই তা আদায় হয়ে যায়। নারী-পুরুষ, হাফেয-গাইরে হাফেয,আলেম বা সাধারণ মুসলমান সকলের জন্য তারাবীহ্ আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্। পক্ষান্তরে তারাবীহ্তে কুরআন খতম করা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সুন্নাত। এটি তারাবীহ্ এর নামাযের মতো নারী-পুরুষ সকলের জন্য ব্যাপক আকারের সুন্নাত নয়। বরং সহজে আদায়ের শর্ত সাপেক্ষে পালনযোগ্য একটি সুন্নাত। অর্থাৎ যদি মুসল্লীদের জন্য কষ্টকর না হয় এবং মুসল্লীর সংখ্যা হ্রাসের শঙ্কা না হয়, তবে এই সুন্নাতের ওপর আমল করা যাবে। অন্যথায় ছোট সূরা দিয়ে পড়াতে হবে। এটাই ফক্বীহ্গণের নির্ভরযোগ্য মত। মোট কথা, তারাবীহ্তে কুরআন খতমের সুন্নাতটি একটি ঐচ্ছিক ও ফযীলতের বিষয়। সহজে সম্ভব হলে খতম করবে। উত্তম তিন খতম করা অন্যথায় দুই খতম করা। না পারলে অন্তত এক খতম করা সুন্নাত। আর যদি এক খতম করাও মুসল্লীদের জন্য কষ্টকর হয় তবে খতম না করে সূরা তারাবীহ্ পড়ে নেওয়াটাই শরীয়তের বিধান।
খতম সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ নয়
তারাবীহ্তে কুরআন খতমের শরয়ী বিধান কী? এ ব্যাপারে ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) বা সাহেবাঈন (রা.) থেকে কোনো ধরনের উক্তি পাওয়া যায় না । তবে পরবর্তী ফকীহ্গণের অধিকাংশের মতে এটা সুন্নাত তবে, সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ নয়। কেননা, মুয়াক্কাদাহ্ হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। হাকীমুল উম্মত হযরত মাওঃ আশরাফ আলী থানভীর (রহ.) মতেও তারাবীহ্তে খতমে কুরআন সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ হওয়ার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি এ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন— যারা খতমে কুরআনকে সুন্নাতে মুআক্কাদাহ্ বলে তাদের দলীল কি এ ব্যাপারে আমার যথেষ্ট দ্বিধা ছিল এবং এখনো আছে। তাই বিষয়টি আমি উলামায়ে কেরামের নিকট জানতে ইচ্ছুক।
(ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৫০০)

খতমের বিনিময়:
পূর্বের আলোচনায় তারাবীহ্ এর নামায ও তাতে কুরআন খতমের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে গেছে। মূল নামাযের বিধান সকলের জন্য আর কুরআন খতমের বিষয়টি ঐচ্ছিক ও অধিক সাওয়াবের সাথে সম্পৃক্ত। যদি কেউ নিজে হাফেয হয় তাহলে এর ওপর আমল করবে। অথবা সহজে কোনো হাফেযের পেছনে ইক্তিদা করা সম্ভব হলে ওই ফযীলত অর্জনের চেষ্টা করবে। কুরআন খতমের এই অতিরিক্ত ফযীলত অর্জনের জন্য টাকা-পয়সা নিয়ে হাফেয নিয়োগ দেওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে সমর্থনযোগ্য নয়। অনুরূপ খতম শুনার ফযীলত অর্জনের সুযোগ করে দিয়ে মুসল্লীদের কাছ থেকে বিনিময় গ্রহণও হাফেয সাহেবের জন্য বৈধ নয়।
এ ক্ষেত্রে শরী‘আতের মূলনীতি হলো: ইবাদত বন্দেগী হিসাবে আমরা যা পালন করে থাকি, সাধারণত তা তিন প্রকার।
(ক) মাক্বাসিদ তথা খালেস ও মূল ইবাদাত। যেমন:- নামায, রোযা, হজ্জ, সাওয়াবের উদ্দেশ্যে তিলাওয়াত, যিকির-আযকার ও দু‘আ দুরূদ ইত্যাদি।
(খ) ওয়াসাইল তথা সহায়ক ইবাদত। যেমন:-ইমামত, ইক্বামত, দীনী শিক্ষাদান ওয়াজ নসীহত ইত্যাদি।
(গ) রুক্বইয়াত তথা বালা মুসীবত থেকে পরিত্রান, রোগ মুক্তি, ব্যবসায় উন্নতি। এ জাতীয় দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্যে বৈধ দু‘আ, খতম, ঝাড়-ফুঁক, তাবীয-কবয ইত্যাদি।
প্রথম প্রকার তথা মাক্বাসিদ জাতীয় ইবাদত করে বিনিময় নেয়া-দেয়া সম্পূর্ণ ও সর্বসম্মতভাবে হারাম। এ ব্যাপারে কোনো কালেও কোনো মাযহাবের কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম-ফক্বীহ্ দ্বিমত পোষণ করেননি। পক্ষান্তরে তৃতীয় প্রকার আমলের বিনিময় গ্রহণ করা সম্পূর্ণ হালাল। শুরু থেকে অদ্যবধি এ ব্যাপারে কোনো মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কোনো মুজতাহিদ ফক্বীহ্ দ্বিমত পোষণ করেননি। আর দ্বিতীয় প্রকার তথা আযান, ইমামত, কুরআন- হাদীস তথা দীনী তা‘লীম এ জাতীয় পর্যায়ের ইবাদাতের বিনিময় গ্রহণ অন্যান্য মাযহাবে জায়িয থাকলেও হানাফী মাযহাবের পূর্ববর্তী উলামায়ে কিরামের মতে নাজায়িয। কিন্তু উলামায়ে মুতাআখ্খিরীর (পরবর্তী যুগের আলেমগণ) শরী‘আতের বিশেষ উসূল তথা মূলনীতির ভিত্তিতে বিশেষ কতক ইবাদাতের বিনিময় গ্রহণ ও প্রদানকে বৈধ বলেছেন। সে উসূল হলো এ শ্রেণীর যে সকল ইবাদাত ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং শি‘আরে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত অথবা দীনের স্থায়িত্ব তার উপর নির্ভরশীল বিধায় বিনিময়ের আদান-প্রদান বৈধ না হলে এ যুগে এসকল ইবাদত ক্বায়েম রাখা সম্ভব হবে না, তাই দীনের স্থায়িত্বের প্রয়োজনেই তা জায়িয। ফিক্বাহ্বিদগণ সে সকল ইবাদতকে চিহিৃতও করেছেন। আর তা হলো: ফরয ওয়াজিব নামাযের ইমামতি, আযান-ইক্বামত, দীনি শিক্ষাদান ইত্যাদি।
পক্ষান্তরে এ দ্বিতীয় প্রকারের যে সকল ইবাদত ফরয ওয়াজিব নয় এবং শি‘আরে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয়, দ্বীনের স্থায়িত্ব তার উপর নির্ভরশীল নয়। যেমন তারাবীহ্ এবং সওয়াব রেসানীর উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করা। এ সকল ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ ও বিনিময় প্রদানকে কোনো আলেম জায়িয বলেননি। বরং নির্ভরযোগ্য সকল ফিক্বাহ্বিদ লেন-দেনকে হারাম বলেছেন।
ইসলামের দলীল চতুষ্টয়ের আলোকে
এই মূলনীতির পক্ষে ইসলামের চার দলীল কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস তুলে ধরা হলো— (ক) পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তা‘আলা ঘোষনা করছেন “ولا تشتروا بآياتى يثمنا قليلا” অর্থ-এবং তোমরা আমার আয়াতসমূহ কোনো নগণ্য বস্তুর বিনিময়ে বিক্রয় করো না।” (সূরা আল-বাকারা-৪১) অর্থাৎ কুরআনের পারিশ্রমিক গ্রহণ করো না। (ইবনে কাসীর ১/২২২)
(খ) সুন্নাহ্ হাদীস শাস্ত্রের একজন প্রসিদ্ধ এবং সর্বজন বিদিত ইমাম হলেন, ইমাম আবূ বকর ইবনে আবী শাইবা রহ. (মৃত্যু: ২৩৫হিঃ) যিনি ইমাম বুখারী এবং মুসলিমের উস্তাদ। এবং তিনি “আল-মুসান্নাফ” নামে হাদীস শাস্ত্রে সর্বযুগে স্বীকৃত এবং গ্রহণযোগ্য একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। উক্ত কিতাবের ৬৯০ নং পরিচ্ছেদের নামকরণ করেছেন এভাবে,
”فيعطى رمضان في باالناس يقوم الرجل في” অর্থাৎ: ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যে রমযানে মানুষদেরকে তারাবীর নামায পড়ায়, অতঃপর তাকে কিছু দেওয়া হয়।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল, অনেকেই বলে থাকেন, তারাবীহ্ এর নামাযের হাফেয সাহেবকে যে টাকা প্রদান করা হয়, সেটা কুরআনের বিনিময় নয়,বরং হাদিয়া স্বরুপ দেওয়া হয়। এজন্য এটা হারাম হবেনা। কিন্তু ইবনে আবী শাইবা রহ: এখানে হাদিয়া বা বিনিময় কোনটিকে নির্দিষ্ট করেননি। বরং মুতলাক রেখেছেন। এর দ্বারা বুঝা যায়, তারাবীহ্ এর নামাযের হাফেয সাহেবদের যা কিছু দেওয়া হয়, চাই সেটা হাদিয়া হোক,অথবা বিনিময় সেটার হুকুম বর্ণনা করা উদ্দেশ্য। উক্ত পরিচ্ছেদের কিছু হাদীস নিম্নরুপ:
عن عبد الله بن مغفل أنه صلى بالناس فى شهر رمضان فلما كان يوم الفطر بعث اليه عبيد الله بن زياد بحلة وبخمسمأة درهم فردها وقال إنا لا نأخدعلى القرآن أجرا ـ
আবদুল্লাহ ইবনে মা’কিল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এক রমযানে লোকদের নিয়ে তারাবীহ্ পড়লেন। এরপর ঈদের দিন উবাইদুল্লাহ্ ইবনে যিয়াদ রাহ. তার কাছে এক জোড়া কাপড় এবং পাঁচশ দিরহাম পাঠালেন। তখন তিনি কাপড় জোড়া এবং দিরহামগুলো এই বলে ফেরত দিলেন যে, আমরা কুরআনের বিনিময় গ্রহণ করি না। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং:৭৮২১, শায়খ মুহাম্মদ আওয়ামা (দা:বা:) তাহকীককৃত)
قال أبو اياس معاوية بن قرة كنت نازلا على عمرو بن النعمان بن مقرن فلما جضر رمضان جائه رجل بألفي درهم من قبل مصعب بن الزبير فقال أن الأمير يقرئك السلام ويقول إنا لن ندع قارئا شريفا إلا وقد وصل اليه منا معروف فاستعن بهذين على نفقة شهرك هذا فقال عمرو اقرأ على الأمير السلام وقل له والله ما قرأنا القرآن نريد به الدنيا ورد عليه ـ
অর্থাৎ: আবূ ইয়াস মুয়াবিয়া বিন কুররা বলেন: আমি আমর বিন নু‘মান বিন মুকরিনের নিকট অবস্থান করছিলাম। আতঃপর যখন রমযান মাস উপস্থিত হল, তখন মুস‘আব বিন যুবায়েরের পক্ষ থেকে এক লোক তার নিকট দুই হাজার দিরহাম নিয়ে উপস্থিত হয়ে বললেন: আমীর আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং বলেছেন: কুরআনের প্রত্যেক কারীর নিকট আমাদের পক্ষ থেকে কিছু হাদীয়া তুহফা পৌঁছে যাবে। আপনি এ দু‘হাজার দিরহাম দ্বারা রমযান মাসের খরচ চালান। তখন আমর বললেন: আমীর সাহেবকে আমার সালাম জানাবেন এবং বলবেন: আমরা দুনিয়ার উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াত করিনা। এবং দু‘হাজার দিরহাম ফিরিয়ে দিলেন।
(মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং: ৭৮২০, শুয়াবুল ঈমান, বায়হাকী: হাদীস নং: ২৬৩৩,২৩৯২)
আব্দুল্লাহ বিন মা‘কিলের প্রথম বর্ণনাটি দেখুন! উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ তার নিকট দিরহাম এবং কাপড়ের সেট পাঠান ঈদুল ফিতরের দিন, লোক চক্ষুর অন্তরালে । তারপরেও তিনি গ্রহণ করেননি। ২য় হাদীসটি লক্ষ্য করুন! আবূ ইয়াসের নিকট দু’হাজার দিরহাম পাঠানো হয়েছিল রমযান চলাকালীন অবস্থায়। তারাবীহ্ এর নামায তখনো শেষ হয়নি। এরপরও তিনি গ্রহণ করেননি।
এ সম্পর্কিত আরো কিছু হাদীস:
عن عبد الله بن شبل قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اقرؤوا القرآن ولا تأكلوا به ولا تستكثروا به

অর্থাৎ: রাসূল (সাঃ) বলেছেন: তোমরা কুরআন পড়, এর বিনিময়ে কিছু খেওনা এবং কুরআন নিয়ে কঠোরতা এবং বাড়াবড়ি করোনা। (মুসনাদে আহমাদ: হাদীস নং: ১৫৫৩৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ্: হাদীস নং: ৭৮২৫, মুসান্নেফে আব্দুর রায্যাক হাদীস নং: ১৯৪৪৪)
হাদীসের মান সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ (মৃত্যু: ৮৫২ হিঃ) বলেন “سنده قوي” অর্থ্যাৎ হাদীসটি সনদের দিক দিয়ে শক্তিশালী।
(ফাতহুল বারী: ৯/১১৫, দারুল হাদীস)
হাদীসে যদিও সরাসরি তারাবীহ্ এর কথা উল্লেখ নেই। কিন্তু ইমাম আবূ বকর ইবনে আবী শাইবাহ্ (রহঃ) হাদীসটি “তারাবীহ্ এর নামায পড়িয়ে কোনো কিছু নেওয়ার অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। তিনি এ হাদীস দ্বারা কোনো কিছু গ্রহণ করাকে নাজায়েয প্রমাণিত করেছেন।
حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، قَالَ : حدَّثَنَا سُفْيَانُ ، عَنْ وَاقِدٍ ، عَنْ زَاذَانَ ، قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ : مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ يَأْكُلُ بِهِ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَوَجْهُهُ عَظْمٌ لَيْسَ عَلَيْهِ لَحْمٌ ـ
অর্থাৎ: যাজান (রহঃ) বলেন: আমি রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন: যে কুরআন পড়ল, এর মাধ্যমে কিছু খেল, সে কিয়ামদের দিন এমন অবস্থায় আসবে যে, তার চেহারায় শুধু হাড্ডি থাকবে। গোশ্ত থাকবেনা।
(মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং ৭৮২৪, শু‘আবুল ঈমান, হাদীস নং ২৬২৫)
عن أبي سعيد وصححه الحاكم رفعه تعلموا القرآن واسألوا الله به قبل أن يتعلمه قوم يسألون به الدنيا فإن القرآن يتعلمه ثلاثة نفر رجل يباهي به ورجل يستأكل به ورجل يقرؤه لله
অর্থঃ আবূ সা‘ঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত : রাসূল (সাঃ) বলেছেন: তোমরা কুরআন শিক্ষা কর, এবং এর বিনিময় আল্লাহর কাছে চাও। এমন সম্প্রদায়ের আগে, যারা কুরআন শিক্ষা করবে এবং এর বিনিময় দুনিয়া চাইবে। কেননা, কুরআন শিক্ষা করে তিন শ্রেণীর মানুষ। এক শ্রেণী এর দ্বরা অন্যকে অপবাদ দেয়, এক শ্রেণী এর দ্বারা খাবার খায় এবং আরেক শ্রেণী আল্লাহর জন্য পড়ে। (ফাতহুল বারী ৯/১১৫,)
ইমাম আবূ বকর ইবনে আবী শাঈবাহ্ (রহঃ) পূর্বেল্লোখিত অধ্যায়ে মোট সাতটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। তম্মধ্যে ছয়টি হাদীস এমন, যা তারাবীহ্ এর নামায পড়িয়ে কোনো কিছু গ্রহণ করাকে নাজায়েয প্রমাণ করে। শুধুমাত্র সা‘ঈদ ইবনে জুবায়ের (রহঃ) এর একটি আছার পেশ করেছেন, যা তারাবীহ্ এর নামায পড়িয়ে কোনো কিছু গ্রহণ করা জায়েয প্রমাণিত হয়। আছারটি হল :حَدَّثَنَا جَرِيرٌعَنْ رَجُلٍ : أَنَّ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ قَامَ بِالنَّاسِ فِي رَمَضَانَ فَأَرْسَلَ إلَيْهِ الْحَجَّاجُ بِبُرْنُسٍ فَقَبِلَهُ
অর্থাৎ- জারীর জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন: সা‘ঈদ ইবনে জুবাইর রমযানে তারাবীহ্ এর নামায পড়িয়েছিলেন। এজন্য হাজ্জাজ তার নিকট “বুরনুস” নামীয় এক ধরনের টুপি পাঠিয়ে ছিলেন। তিনি গ্রহণ করলেন ” (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ্ হাদীস নং ৭৮৩২)
এখানে জারীর থেকে বর্ণনাকারী “মাজহুল ” তথা অজ্ঞাত। অর্থাৎ তার পরিচয় জানা যায়না। মাজহুল রাবী থেকে রেওয়ায়াত করা হাদীস জুমহুর মুহাদ্দীসগনের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। (মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ পৃষ্ঠা ১১১শায়েখ নুরুদ্দীন ইত্র তাহকীক কৃত)
সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত তার পরিচয় জানা না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার বর্ণনা গ্রহণ করা হবেনা। এজন্য ইবনে জুবাইরের “আছার” দ্বারা জায়েযের পক্ষে দলীল দেয়া আদৌ ঠিক হবেনা।
(গ) ইজমা‘
اعْلَمْ أَنَّ عَامَّةَ كُتُبِ الْمَذْهَبِ مِنْ مُتُونٍ وَشُرُوحٍ وَفَتَاوَى كُلُّهَا مُتَّفِقَةٌ عَلَى أَنَّ الِاسْتِئْجَارَ عَلَى الطَّاعَاتِ لَا يَصِحُّ عِنْدَنَا …….. فَالِاسْتِئْجَارُ عَلَى الطَّاعَاتِ مُطْلَقًا لَا يَصِحُّ عِنْدَ أَئِمَّتِنَا الثَّلَاثَةِ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ قَالَ فِي مِعْرَاجِ الدِّرَايَةِ وَبِهِ قَالَ أَحْمَدُ وَعَطَاءٌ وَالضَّحَّاكُ وَالزُّهْرِيُّ وَالْحَسَنُ وَابْنُ سِيرِينَ وَطَاوُسٌ وَالشَّعْبِيُّ وَالنَّخَعِيُّ ثُمَّ أَطَالَ فِي الِاسْتِدْلَالِ فَرَاجِعْهُ وَلَا شَكَّ أَنَّ التِّلَاوَةَ الْمُجَرَّدَةَ عَنْ التَّعْلِيمِ مِنْ أَعْظَمِ الطَّاعَاتِ الَّتِي يُطْلَبُ بِهَا الثَّوَابُ فَلَا يَصِحُّ الِاسْتِئْجَارُ عَلَيْهَا؛
ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ হারাম হওয়ার ব্যাপারে ফক্বীহ্গণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। কুরআন খতম করা অন্যতম একটি ইবাদত। এর দ্বারা পরকালে সাওয়াবের আশা করা হয়। চাই খতম তারাবীহ্তে করা হোক বা নামাযের বাইরে। তাই এ ধরনের খতমের বিনিময় গ্রহণ বৈধ নয়। (তানকীহুল ফাতাওয়া আল হামিদিয়্যাহ ২/১২৬ ও ১২৭)
(ঘ) ক্বিয়াস ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ নাজায়েয হওয়ার বিষয়টি ফক্বীহ্গণ ক্বিয়াসের ভিত্তিতেও প্রমাণ করেছেন। আল্লামা বদরুদ্দীন ‘আইনী (রহ.) বলেন,
وَالْأَصْل الَّذِي بنى عَلَيْهِ حُرْمَة الِاسْتِئْجَار على هَذِه الْأَشْيَاء: أَن كل طَاعَة يخْتَص بهَا الْمُسلم لَا يجوز الِاسْتِئْجَار عَلَيْهَا، لِأَن هَذِه الْأَشْيَاء طَاعَة وقربة تقع على الْعَامِل. قَالَ تَعَالَى: {وَأَن لَيْسَ للْإنْسَان إلَاّ مَا سعى} (النَّجْم: ٩٣) . فَلَا يجو ز أَخذ الْأُجْرَة من غَيره كَالصَّوْمِ وَالصَّلَاة ـ
যেহেতু ইবাদত বান্দার নিজের পক্ষ থেকে সম্পাদিত হয় তাই এর সাওয়াবও সেই পায়, বিধায় অন্যের কাছে এর বিনিময় গ্রহণ বৈধ নয়। যেমন-নামায, রোযা আদায় করে বিনিময় গ্রহণ বৈধ নয়।
আল্লামা শামী (রহ.) বলেন,
لِأَنَّ الِاسْتِئْجَارَ بَيْعُ الْمَنَافِعِ وَلَيْسَ لِلتَّالِي مَنْفَعَةٌ سِوَى الثَّوَابِ وَلَا يَصِحُّ بَيْعُ الثَّوَابِ ـ
ইজারা হচ্ছে মূলত উপকারের ক্রয়-বিক্রয়। কুরআন তিলাওয়াতকারী সাওয়াব ব্যতীত উপকৃত হওয়ার মতো এমন কিছু পায় না, যা সে বিক্রয় করতে পারে। আর সাওয়াবের ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়। (তানকীহুল ফাতাওয়া আল হামিদিয়্যাহ ২/১২৭)
উল্লেখিত শরী‘আতের চার দলীল থেকে কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময় গ্রহণ অবৈধ প্রমাণিত হয়। চাই তা যেকোনোভাবেই তিলাওয়াত করা হোক, নামাযে বা নামাযের বাইরে। তারাবীহ্ এর নামাযও এর অন্তর্ভুক্ত। এখানে নাম ধরে
ধরে সকল ইবাদতের উল্লেখ নিস্প্রয়োজন। মৌলিক সূত্র বলে দেওয়াই যথেষ্ট। তা সত্ত্বেও যদি কেউ বলে তারাবীহ্ এর নামাযে কুরআন খতমের বিনিময় হারাম হওয়ার ভিন্ন কোনো দলীল নেই। তবে তাকে বলা হবে নতুন নতুন যত নেশাজাতদ্রব্য আবিষ্কার হচ্ছে তা হারাম হওয়ার ভিন্ন কোনো দলীল নেই। শুধু একটি মূলনীতি রয়েছে যে, “كل مسكر حرام” তথা প্রত্যেক নেশাজাত দ্রব্য হারাম।” আর ঐ মূলনীতির ভিত্তিতে যেভাবে সকল ক্ষেত্রে হারামের হুকুম দেওয়া হয়; অনুরূপ “ইবাদতের বিনিময় হারাম” এই মূলনীতির ভিত্তিতে তারাবীহ্তে কুরআন খতম করে বিনিময় গ্রহণের হুকুম প্রদান করা হবে। এখানে এ বিষয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই যে, উল্লেখিত আয়াত ও হাদীসে শুধু কুরআন তিলাওয়াত করে বিনিময় গ্রহণ নিষেধ করা হয়েছে। তারাবীহ্ এর ইমামতির বিনিময়কে নয়। কেননা, খতমে তারাবীহ্তে কুরআন খতমই মুখ্য উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এ জন্যই হাফেয নিয়োগ দেওয়া হয় আর পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়। হাফেয সাহেব যদি ছোট সূরা দিয়ে সূরা তারাবীহ্ পড়িয়ে দেয় তবে কেউ-ই তা মেনে নেবে না।
সাহাবাদের আমল
তারাবীহ্ এর বিনিময় গ্রহণ সাহাবায়ে কেরামগণের মতেও নাজায়িয ছিল। যা আমরা হযরত আব্দুল্লাহ বিন মা’কিল থেকে বর্ণিত হাদীসে পেয়েছি যে, তিনি এক রমাজানে লোকদের নিয়ে তারাবীহ পড়ালেন। এরপর ঈদের দিন উ‘বাইদুল্লাহ্ ইবনে যিয়াদ তাঁর কাছে একজোড়া কাপড় এবং পাঁচশত দিরহাম পাঠালেন। তিনি এগুলো ফেরত দিলেন এবং বললেন, আমরা কুরআনের বিনিময় গ্রহণ করি না। অনুরূপভাবে হযরত ‘আমর বিন নু’মান (রা.) এর খিদমতে তারাবীতে কুরআন শোনানোর জন্য দুই হাজার দিরহাম পেশ করা হলে তিনি তা ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, আমরা কুরআনকে দুনিয়া উপার্জনের জন্য পড়ি না।
উলামায়ে দেওবন্দের ফাতাওয়া :
হযরত মাদানী (রহ.) বলেন, “রমাযানে হাফেযদের জন্য বিনিময় গ্রহণ করা হারাম। তা’লীম, আযান বা ইমামতির বিনিময়ের সাথে এর তুলনা করা যাবে না। কারণ, এগুলো বন্ধ হয়ে গেলে দ্বীন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পক্ষান্তরে তারাবীহ্তে কুরআন খতম না করে তারাবীহ্ পড়া হলে নামায আদায় হয়ে যাবে, দ্বীনের কোনো ক্ষতি হবে না। তাই কুরআন খতমের বিনিময় গ্রহণ থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।” (সারসংক্ষেপ তাকরীরে তিরমিযী-৩১৭)
হযরত থানভী (রহ.) এ ধরনের খতমে তারাবীহ্ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “এ ধরনের প্রথা বাতিল ও শরী‘আতবিরোধী। এমন খতম দ্বারা সাওয়াব তো হবেই না, উল্টো গুনাহ হবে।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩১৯)
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি এই বিনিময় গ্রহণকে নাজায়িয মনে করি।” (ইমদাদুল ফাতাওয়া) মুফতী কেফায়াতুল্লাহ (রহ.) বলেন, “তারাবীহ্ এর বিনিময় দেওয়া যেহেতু জায়িয নয়, তাই এতে সাওয়াবের আশা করা যায় না। নাজায়িযভাবে এই বিনিময় গ্রহণ তাদের জন্য মাকরূহে তাহরিমী।” (কিফায়াতুল মুফতী ৩/৪১২)
মুফতী আযীযুর রহমান (রহ.) বলেন, “বিনিময় দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত বৈধ নয়। এতে কোনো সাওয়াব নেই। যাদের নিয়্যতে লেনদেন আছে তা শর্ত করে নেওয়ার মতোই নাজায়েয। এমতাবস্থায় শুধু তারাবীহ্ পড়া। বিনিময় দিয়ে কুরআন শ্রবণ না করাই উত্তম। এতে তারাবীহ্ এর ফযীলত পেয়ে যাবে।” (ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ ৪/১৪৬)
মুফতী মাহমূদ হাসান গাংগুহী (রহ.) বলেন, “তারাবীহ্ এর বিনিময় লেনদেন নাজায়িয। দাতা-গ্রহীতা উভয়ে গুনাহগার হবে এবং সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে।” (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ৭/১৭১)
খতম তারাবীহ্ কখন নিষেধ
আকাবীরে দেওবন্দের ফাতাওয়ার মাঝে তারাবীহ্ এর পারিশ্রমিক গ্রহণের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে যে, বিনিময় ছাড়া খতম তারাবীহ্ পড়ানোর মতো কোনো হাফেয পাওয়া না গেলে সূরা তারাবীহ পড়ে নেবে। তবুও বিনিময় দিয়ে হাফেয রাখা যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে খতম তারাবীহ্ এর ব্যবস্থাপনা নিষেধ।হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন, মুসল্লী সংখ্যা কমে যাওয়ার ভয়ে যখন খতমের সুন্নাত ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তবে ইবাদতের বিনিময় গ্রহণের মতো গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য এ কথা কেন বলা হবে না যে সূরা তারাবীহ পড়ে নাও? (ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৪৮৪)
মুফতী মাহ্মূদ হাসান গাংগুহী (রহ.) বলেন, যদি বিনিময় ছাড়া শুনানোর মতো কাউকে পাওয়া না যায়। তবে সূরা তারাবীহ্ পড়ে নেবে। (ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ৭/১৭১)
হীলা-বাহানা
হাফেয সাহেবকে তারাবীর বিনিময় দেওয়ার জন্য অনেকে বিভিন্ন হীলা করে থাকে। এর স্বপক্ষে দু-একটি ফাতাওয়া পেশ করা হয়। কিন্তু নির্ভরযোগ্য মতানুসারে এ ব্যাপারে কোনোরূপ হীলা-বাহানার অবকাশ নেই। যেমন হাফেয সাহেবকে পাঞ্জেগানা নামাযের দু-এক ওয়াক্তের ইমামতীর দায়িত্ব দেওয়া একটি হীলা। এ ব্যাপারে হযরত থানভী (রহ.) বলেন, যদি প্রকৃত পক্ষে ইমামতীই উদ্দেশ্য হতো তবে এটা জায়েয হতো। অথচ এখানে উদ্দেশ্য খতমে তারাবীহ্ আর ইমামতী একটা হীলা মাত্র। দিয়ানতের ক্ষেত্রে তথা আল্লাহ্ ও বান্দার মাঝে যে মু’আমালা হয় শরী‘আতের দৃষ্টিতে সেখানে হীলার দ্বারা কোনো কিছু বৈধ হয় না। তাই এটা নাজায়েয হবে। (ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৪৮৫) আল্লামা মুফতী সা‘ঈদ আহ্মাদ পালনপূরী রহ. ইমদাদুল
ফাতাওয়ার টিকায় লিখেন, ফিক্বাহ্শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ মূলনীতি হচ্ছে— “الامور بمقاصدها” তথা উদ্দেশ্য দেখে সিদ্ধান্ত প্রদান। হাফেযকে ইমাম বানানোর মূল উদ্দেশ্য ইমামতী নয়, বরং কুরআনের খতম। আর এটা নিছক হীলা, যা দিয়ানতের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয় । তাই থানভী (রহ.)- এর ফাতাওয়াই সঠিক।
আরেকটি হীলা হচ্ছে, খেদমতের নামে বা হাদিয়ার নামে আদান-প্রদান। অনেক এলাকায় হাফেযের বিনিময় ঠিক করা হয় না। আল্লাহর ওয়াস্তে পড়ানোর দাবি করা হয় এবং পরে মুসল্লীরাও আল্লাহর ওয়াস্তে হাফেযের খেদমতের নামে নগদ, কাপড়-চোপড় ইত্যাদি হাদিয়া দিয়ে থাকে। এমনকি শুধুমাত্র এক মাসের এক ওয়াক্ত মেহ্নতের বিনিময়ে তাকে এই পরিমান দেয়া হয় যে, উক্ত মসজিদের ইমাম, মুআয্যিন এবং খাদেমগণ সারা বৎসর প্রত্যেকদিন পাঁচ ওয়াক্ত মেহ্নত করা সত্যেও দুই, তিন মাস মিলেও ঐ পরিমান ওয়াযীফা প্রাপ্ত হয় না। যা তাদেরকে ইহানত করারই নামান্তর। তাই শরী‘আতে এই পন্থা অবলম্বনেরও সুযোগ নেই।মুফতী রশীদ আহ্মদ (রহ.) বলেন, “খেদমতের নামে নগদ বা কাপড় ইত্যাদি প্রদানও বিনিময়ের অন্তর্ভুক্ত এবং বিনিময় ধার্য্য করার চেয়ে আরো মারাত্মক। কেননা, এখানে দ্বিগুণ গুনাহ হচ্ছে। একে তো কুরআন শোনানোর বিনিময় গ্রহণের গুনাহ, দ্বিতীয়ত এটাকে বিনিময় মনে না করার গুনাহ।“ যারা বলে হাফেয সাহেবও আল্লাহর ওয়াস্তে পড়ান, আমরাও আল্লাহর ওয়াস্তে তার খেদমত করি। এ ধরনের হীলাবাজদের নিয়্যত যাচাইয়ের জন্য ফকীহগণ একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। যদি হাফেযদের কিছুই না দেওয়া হয় তাহলে পরের বছর ওই মসজিদে আসে কি না? আর মুসল্লীদের পরীক্ষা হচ্ছে হাফেয সাহেব যদি তাদের মসজিদে না আসে তবে তাদের খেদমত করা হয় কি না? বর্তমান সময়ে এভাবে পরীক্ষা করা হলে দেখা যাবে হাফেযরা ঐ মসজিদে ফিরেও তাকাবে না। আর মুসল্লীদের অবস্থা এই, যদি হাফেয তাদের মসজিদে কাজ না করে তবে সে যতই অভাবী হোক না কেন তার প্রতি দয়া করা হবে না। এতে বুঝা যায় উভয় পক্ষের নিয়ত, পারিশ্রমিক আদান-প্রদান, আল্লাহর ওয়াস্তে খেদমতের দাবি সবই মিথ্যা। এভাবে যারা শুনে বা শুনায় তারা ফাসেক ও মারাত্মক গুনাহগার। যদি কোনো হাফেযের প্রকৃতপক্ষেই পারিশ্রমিক গ্রহণের নিয়্যত না থাকে, তবুও লেন-দেনের প্রথার কারণে কিছু পাওয়ার আশা থাকবে এবং না পেলে মনে মনে আফসোস হবে। এটাকে أشراف نفس ইশরাফে নফস বলে, যা হারাম। (আহসানুল ফাতাওয়া ৩/৫১৪)
একটি ভুল ক্বিয়াস
অনেকে খতম তারাবীহ্ এর বিনিময়কে পাঞ্জেগানা নামাযের ইমামতীর বিনিময়ের সাথে তুলনা করে থাকেন, যা একটি ভুল ক্বিয়াস। কেননা, এখানে এবং এ দু’য়ের মাঝে মিল নেই। ফরয নামাযের জামা’আত ক্বায়েম করা ওয়াজিব। পক্ষান্তরে তারাবীহ্তে কুরআন খতম করা ঐচ্ছিক ও ফযীলতের বিষয়। তারাবীহ্ শুদ্ধ হওয়ার শর্ত নয়। সূরা তারাবীহ্ পড়াই যথেষ্ট। তাহলে এ দু‘টি সমমানের হলো কী করে? এ কারণেই পরবর্তী ফক্বীহ্গণ ফরয নামাযের ইমামতীর বিনিময় গ্রহণ জরূরতের কারণে বৈধ বলেছেন। আর খতমে তারাবীহ্ এর বিনিময় গ্রহণকে জরূরত না থাকায় অবৈধ বলেছেন। হযরত মাদানীর (রহ.) মতে তা‘লীম, আযান বা ইমামতীর সাথে এর তুলনা করা ভুল। কারণ, এগুলো বন্ধ হয়ে গেলে দ্বীন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পক্ষান্তরে তারাবীহ্তে কুরআন খতম করা না হলে দ্বীনের কোনো ক্ষতি নেই। সূরা তারাবীহ্ পড়ে নিলে আদায় হয়ে যাবে। (তাক্বরীরে তিরমিযী ৩১৭) হযরত থানভীর (রহ.) মতে, তারাবীহ্তে কুরআন খতম করা যেহেতু দ্বীনের মাঝে জরূরী কোনো বিষয় নয়। তাই জরূরতের কারণ দেখিয়ে এর বিনিময় বৈধতা প্রমাণ হতে পারে না। (ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৪৭৮)
মুহাদ্দিসে কাবীর মাও. যফর আহমদ উসমানীর (রহ.) মতে, তারাবীহ্ এর ইমামতীর বিনিময় গ্রহণ বৈধ নয়। কেননা, এখানে এমন কোনো শর‘য়ী জরূরত নেই, যার ভিত্তিতে কুরআন শিক্ষা, ফরয নামাযের ইমামতী বা
আযানের বিনিময়কে বৈধ বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ফরয বা সুন্নাতে মুআক্কাদার অন্তর্ভুক্ত, যা দ্বীনের শে‘আর বা বিশেষ লক্ষণ হিসেবে ধর্তব্য হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে তারাবীহ্ এর ইমামতী সুন্নাতে কেফায়া এবং তারাবীহ্ ছোট ছোট সূরা দিয়েও আদায় হয়ে যায়। খতম করা শর্ত নয়। (ইমদাদুল আহকাম ৩/৫৫৯)
হাদীসের অপব্যাখ্যা
আকাবীরে দেওবন্দ ও উম্মতের ফক্বীহগণের ঐক্যমতের ভিত্তিতে খতমের বিনিময় নাজায়েয জানা সত্ত্বেও অনেকে হাফেযদেরকে হারামে লিপ্ত করার জন্য মরিয়া হয়ে লেগেছে। ইদানীং নতুন নতুন মুহাক্কি¦ক্ব নিজেকে যাহির করার জন্য কুরআন হাদীসের আজগুবী ব্যাখ্যা প্রদানের প্রয়াস চালাচ্ছেন। এ ধরনের এক গবেষক বুখারী শরীফের প্রসিদ্ধ হাদীস যাতে ঝাড়-ফুঁকের বিনিময় গ্রহণের কথা ব্যক্ত হয়েছে; উক্ত হাদীস থেকে কুরআন খতমের বিনিময় বৈধ করার চেষ্টা করেছেন। আমাদের দেশের কিছু কিছু আলেম তারাবীহ্ এর নামায পড়িয়ে বিনিময় গ্রহণ জায়েয বলে ফতোয়া দেন। কেউ কেউ তো এর পক্ষে বই পুস্তকও রচনা বরেছেন। বৈধ হওয়ার পক্ষে তাদের মূল দলীল দুটি:
(১) বুখারীতে আছে: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “إن أحق ما أخذتم عليه أجرا كتاب الله”
অর্থ: তোমার যেগুলোর বিনিময় গ্রহণ কর, এর মধ্যে বিনিময় গ্রহণের সবচেয়ে উপযুক্ত হল আল্লাহর কিতাব। (বুখারী: হাদীস নং ৪৭৩৭)
(২) প্রথম যুগে সবধরণের ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ নাজায়েয ছিল। পরবর্তীতে আযান, ইমামত, কুরআন শিক্ষার বিনিময় গ্রহণ প্রয়োজনের কারণে জায়েয ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। তারাবীহ্ এর নামাযও একটি প্রয়োজন। এজন্য এর বিনিময় গ্রহণ জায়েয হবে।
দ্বিতীয় বিষয় নিয়ে পূর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যে, আজান, ইমামত এবং কুরআন শিক্ষার উপর ক্বিয়াস করে অন্যান্য ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ জায়েয ফতোয়া দেওয়া যাবেনা। এখানে হাদীসটি ব্যাখ্যাসহ পেশ করা হচ্ছে- ইমাম বুখারী (রহ.) ওই হাদীসের শিরোনাম দিয়েছেন: “باب الشرط فى الرقية بقطيع من الغنم” (ঝাড়-ফুঁকের বিনিময়ে বকরীর পাল শর্ত করা।)
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ نَفَرًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرُّوا بِمَاءٍ فِيهِمْ لَدِيغٌ أَوْ سَلِيمٌ فَعَرَضَ لَهُمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْمَاءِ فَقَالَ هَلْ فِيكُمْ مِنْ رَاقٍ إِنَّ فِي الْمَاءِ رَجُلًا لَدِيغًا أَوْ سَلِيمًا فَانْطَلَقَ رَجُلٌ مِنْهُمْ فَقَرَأَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ عَلَى شَاءٍ فَبَرَأَ فَجَاءَ بِالشَّاءِ إِلَى أَصْحَابِهِ فَكَرِهُوا ذَلِكَ وَقَالُوا أَخَذْتَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ أَجْرًا حَتَّى قَدِمُوا الْمَدِينَةَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخَذَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ أَجْرًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ
হযরত ইব্নে আব্বাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবীযী (সা.)-এর কতক সাহাবী পানির ধারে অবস্থিত একটি গোত্রের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সেখানে একজন সাপে কাটা রোগী ছিল। গোত্রের এক লোক এসে তাদেরকে জিজ্ঞেস করল, আপনাদের কেউ ঝাড়-ফুঁক জানেন কি? আমাদের এক সাপে কাটা রোগী আছে। এক সাহাবী গিয়ে এক পাল বকরীর বিনিময়ে সূরা ফাতিহা দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করল। এতে লোকটি সুস্থ হয়ে গেল। বকরীগুলো নিয়ে সাথীদের কাছে ফিরে এলে সকলে তা অপছন্দ করল এবং বলল, তুমি তো কুরআনের বিনিময় গ্রহণ করলে। মদীনায় ফিরে তাঁরা অভিযোগ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.) ! সে আল্লাহর কিতাবের বিনিময় গ্রহণ করেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন : “إن أحق ما أخذتم عليه أجرا كتاب الله” অর্থ: তোমার যেগুলোর বিনিময় গ্রহণ কর, এর মধ্যে বিনিময় গ্রহণের সবচেয়ে উপযুক্ত হল আল্লাহর কিতাব।
কিতাবুল্লাহ্ বিনিময় গ্রহণের অধিক অধিকযোগ্য। (বুখারী ২/৮৫৪, হা. ৫৭৩৭)
এখানে সর্বপ্রথম লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, ইমাম বুখারী (রহ.)-এর শিরোনাম। তিনি এই হাদীস থেকে ঝাড়-ফুঁকের বিনিময়ের বৈধতা প্রমাণ করেছেন। অতএব, তাঁর মতে হাদীসটি পার্থিব বিষয়ের বিনিময় সংক্রান্ত; ইবাদত সংক্রান্ত নয়। পক্ষান্তরে খতমে কুরআন পার্থিব বিষয় নয়, বরং একটি স্বেচ্ছা পালনীয় ইবাদত। তাই ইবাদতের বিনিময় গ্রহণের বৈধতা এ হাদীস থেকে প্রমাণের অবকাশ নেই। আল্লামা কাশ্মীরী (রহ.) হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে অপর একটি বিষয় হচ্ছে, ঝাড়-ফুঁকের বিনিময় গ্রহণ। অতএব, এটা বৈধ, কেননা, তা ইবাদত নয়। (ফয়যুল বারী ৩/৫১৫)
আল্লামা ইবনে হাজার আসক্বালানী (রহ.) বলেন, “হানাফীদের মতে তালীমের বিনিময় গ্রহণ নাজায়েয। আর ঝাড়-ফুঁকের বিনিময় গ্রহণ বৈধ।” (ফাতহুল বারী ৪/৬২০)ফাতিহা ইত্যাদি দ্বারা ঝাড়-ফুঁকের বিনিময় গ্রহণকে নিষেধ করেন না। তিনি নিষেধ করেন, কুরআন শিক্ষার বিনিময়কে। আর তা’লীম ও ঝাড়-ফুঁক সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। এটা তাঁর একক মত নয়। বরং আব্দুল্লাহ ইবনে শাক্বীক, আসওয়াদ ইবনে সা‘লাবা, ইবরাহীমে নাখ‘ঈ, আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ, কাজী শুরাইহ্ ও হাসান ইবনে ইয়াহ্ইয়ার অভিমতও এটাই। (‘উমদাতুল কারী ২১/২৬৪) আল্লামা কুরতুবী (রহ.) বলেন, “ঝাড়-ফুঁকের বিনিময়ের বৈধতার দ্বারা কুরআন শিক্ষার বৈধতা প্রমাণ হয় না।” অনেকে “إن أحق ما أخذتم عليه أجرا كتاب الله” এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “يعنى اذا رقيتم به” কিতাবুল্লাহ্ দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করা হলে বিনিময় গ্রহণ বৈধ। (উমদাতুল কারী ১০/১০৪) আল্লামা বদরুদ্দীন ‘আঈনী (রহ.) বলেন,“বুখারীর হাদীস ان أحق ما اخذتم عليه أجرا كتاب الله
আবূ দাঊদ শরীফে বর্ণিত, অপর একটি হাদীস—
ان كنت تحب ان تطوق طوقا من نار فاقبلها দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।
(উমদাতুল কারী ১০/১০৩)
মোটকথা, হাদীস বিশারদগণ বুখারী শরীফের উক্ত হাদীসের কয়েকটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
১. হাদীসে বর্ণিত গোত্রের লোকেরা কাফের ছিল বিধায় তাদের কাছ থেকে মাল নেওয়া বৈধ হয়েছে।
২. তাদের ওপর মেহমানদারী কর্তব্য ছিল, যা তারা পালন করেনি বিধায় তাদের মাল নিয়ে আসা বৈধ হয়েছে।
৩. ঝাড়-ফুঁক ইবাদত নয় তাই এর বিনিময় গ্রহণ বৈধ হয়েছে।
৪. এখানে أجرا দ্বারা সাওয়াব উদ্দেশ্য বিনিময় নয়।
৫. হাদীসটি অপর হাদীস দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। (কাশফুল বারী, উমদাতুল কারী)
অতএব, বুখারী শরীফের হাদীসের মনগড়া ব্যাখ্যা প্রদান করে এর দ্বারা তারাবীতে কুরআন খতমের বিনিময় গ্রহণ বৈধ বলা যাবে না। হাদীসটি মূলত পার্থিব বিষয়ে কুরআনের বিনিময় গ্রহণ সংক্রান্ত।
নতুন সংশোধনী :
অনেকে ইবাদতের বিনিময় গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন আরেকটি সংশোধনীর মাধ্যমে তারাবীহ্ এর বিনিময় বৈধ করার বিষয়ে মত প্রকাশ করে থাকে। তাদের দাবি হচ্ছে, ইবাদতের বিনিময় সর্বসম্মতভাবে নাজায়েয হওয়া সত্ত্বেও
আল্লামা বদরুদ্দীন আঈনী (রহ.) বলেন, ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) সূরা যেভাবে পরবর্তী ফক্বীহ্গণ কুারআন শিক্ষা, ফরয নামাযের ইমামতী ও আযানের বিনিময় গ্রহণের বৈধতার জন্য উক্ত মূলনীতির মাঝে সংশোধনী এনেছেন, অনুরূপ আরেকটি সংশোধনী এনে খতম তারাবীহ্ এর বিনিময়কে বৈধ করা হোক। তাদের এ দাবি অযৌক্তিক।
কারণ, ফক্বীহ্গণ যে সংশোধনী এনেছেন তা ছিল شعار اسلام তথা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব রক্ষার জরূরতকেন্দ্রিক। অথচ কুরআন খতম এমন কোনো জরূরত নয়। যার বিস্তারিত আলোচনা পূর্বে করা হয়েছে। তা ছাড়া ফক্বীহ্দের ওই সংশোধনী ছিল সীমিত আকারে প্রদত্ত ছাড়, সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে ব্যাপক নয়। অন্যথায় টাকা দিয়ে ই‘তিকাফে বসানো বা নামায-রোযা করানোর বৈধতাও দিতে হবে। কারণ, এসব বিষয়েও আজ ব্যাপক অবহেলা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই ওই সংশোধনীর গণ্ডি সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তারাবীহ্ এর ক্ষেত্রে তাকে টেনে আনার অবকাশ নেই।
আল্লামা শামী (রহ.) বলেন, “পরবর্তী ফক্বীহ্দের ফাতাওয়া মতে জরূরতের কারণে কুরআন শিক্ষা, আযান ও ইমামতীর বিনিময় বৈধ। পক্ষান্তরে তিলাওয়াতে কুরআন ও অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রে জরূরত না থাকায় বিনিময় গ্রহণ বৈধ নয়।” (শামী ১/৫৬২) তিনি আরো বলেন, “ফক্বীহ্দের ঐ সংশোধনী উল্লেখিত বিষয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ। সকল ইবাদতের বেলায় প্রযোজ্য নয়।” (শামী ৬/৫৬)
মুফতী আব্দুর রহীম লাজপূরী (রহ.) বলেন, “পরবর্তী ফক্বীহ্গণ জরূরতের ভিত্তিতে কুরআন শিক্ষা, আযান ও ইমামতীর মতো কয়েকটি বিষয়ে বিনিময় গ্রহণের বৈধতা দিয়েছেন। এই বৈধতার হুকুম ওই সকল বিষয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তারাবীহ্ এর কথা যেহেতু ওই সকল বিষয়ের মাঝে উল্লেখ নেই তাই মূল ফাতাওয়া অনুযায়ী তারাবীহ্ এর বিনিময় আদান-প্রদান নাজায়েয থাকবে।” (ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়া ৪/৪২২, ইমদাদুল মুফতীন ২১৩)
তারপরও একটি বিষয় থেকে যায়, তাহলো মুসলমানগণের আবেগ। হাফেযদের মূল্যায়ন করা, তাদের খেদমত করা, তা কিভাবে সম্ভব? মুসলমানদের এরূপ আবেগ, ভক্তি-ভালোবাসা থাকা স্বাভাবিক। কারণ, পবিত্র কুরআনের হাফেযের অগণিত ফযীলত হাদীস শরীফে এসেছে। তাই হাফেযদের মূল্যায়ন করা, মুহাব্বত করা, তাদের যথাসম্ভব খেদমত করা সব মুসলমানের জন্য জরূরী বিষয়। শরী‘আতে এরও পদ্ধতি ভিন্নভাবে আছে। রমযানসহ সারা বছর তাদের খেদমত করার সুযোগ আছে। যেমন-
১.এক্ষেত্রে মুসলমানদের সর্বপ্রথম দ্বীনি দায়িত্ব হলো পবিত্র কুরআনের  হাফেযকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসা ও ভক্তি করা। এই ভালোবাসা ও ভক্তি সব সময়ের জন্য, সারা বছরের জন্য। শুধু রমজানের জন্য সীমাবদ্ধ নয়।
২. পবিত্র কুরআন ও হাফেযে কুরআনের মুহাব্বত তখনই প্রকাশ পাবে, যখন অন্তরে নিজের সন্তানকে হাফেযে কুরআন বানানোর ইচ্ছা করা হয় এবং চেষ্টা করা হবে।
৩. রমযান মাসে যে হাফেযের পেছনে তারাবীহ্ পড়া হবে,তার খানার ইন্তেযাম করা এবং খানাপিনার ক্ষেত্রে সর্বোন্নত ব্যবস্থা করা।
৪. প্রতিদিন যাতায়াত করলে তার খরচ এবং তারাবীহ্ খতম শেষে হাফেয সাহেব নিজ বাড়িতে পৌঁছার খরচ কর্তৃপক্ষকে বহন করা। তাদের যাতায়াতের জন্য সবচেয়ে উন্নত গাড়ি ব্যবহার করা।
৫. খতমের সময় ছাড়া অন্য কোনো সময় কেউ যদি নিজ উদ্যেগে হাফেয সাহেবের মুহাব্বতে ব্যক্তিগত ভাবে হাদিয়া পেশ করেন, তাহলে শরী‘আতে তার অনুমতি আছে। এটা আলেম-উলামা ও ত্বলেবে ইলমদের খেদমতের অন্তর্ভুক্ত। যার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা কুরআনে কারীমে তৃতীয় পারার সূরা বাক্বারায় ২৭৩ নং আয়াতে উৎসাহিত করেছেন। তবে এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপার, কেউ করতে চাইলে করতে পারেন।
৬. সারা বছর যারা পবিত্র কুরআন হিফয করার কাজে নিয়োজিত, এরূপ ছাত্র-শিক্ষকদের যেকোনো খেদমত যেকোনো সময় আঞ্জাম দেওয়া। নিজের সাধ্যমতো হাফেযদের খোঁজখবর রাখা, তাদের জরূরত পূরণ করা। তাদের খানাপিনার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।
এভাবে হাফেযদের যথাযথ খিদমত আঞ্জাম দেওয়া ও আন্তরিক ভালোবাসা দিয়ে তাদের অভিভাবকত্ব করার ফযীলত অপরিসীম। আল্লাহ আমাদের বৈধ পদ্ধতিতে হাফেযদের যথাযথ মূল্যায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমীন!!

Share: