ক্বওমী মাদরাসা; উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ’ বছর পূর্বে এই ধরাধামে আগমন করেছিলেন এক মহামানব| যার স্মরণে আমরা দরূদ পড়ি- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম| যার আগমনে আলোকিত হয়েছিল পৃথিবী, আলোকিত হয়েছিল মানবতা| যার হাতে গড়ে উঠেছিল একদল মহান মানুষ; যারা কিয়ামত পর্যন্ত নন্দিত, বরিত ও অনুসৃত| রাযিয়াল্লাহু আনহুম|
তিনি যেমন সর্বশেষ নবী, তেমনই সর্বশেষ আসমানী শিক্ষাব্যবস্থার কারিগর- যা চিরসতেজ ও সর্বযুগে কার্যকর| সাহাবায়ে কেরাম এই শিক্ষাকে ধারণ করেছেন ও পৌঁছে দিয়েছেন পরবর্তী প্রজন্মে| এভাবে যুগ-পরম্পরায় এই শিক্ষা টিকে আছে ও কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবে ইনশাআল্লাহ|
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রণীত এই শিক্ষা-ব্যবস্থার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন স্বয়ং তিনিই | নবী-পরবর্তী যুগে খেলাফতের অধীনে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হত এর শিক্ষালয়গুলো| উপমহাদেশে দিল্লির মুঘল সালতানাত ছিল এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক| কিন্তু বৃটিশ-বেনিয়া ও দেশীয় গাদ্দারদের সম্মিলিত ষড়যন্ত্রে এই শিক্ষা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা হারায়| বিপদের স্বরূপ উপলব্ধি করে ১২৮৩ হিজরী মোতাবেক ১৮৬৬ ঈসায়ী সনে সম্পূর্ণ ‘কওম’ তথা জনগণের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘দারুল উলূম দেওবন্দ’|
পরবর্তীতে দারুল উলূম দেওবন্দের পরিচালনারীতি ও পাঠ্যতালিকা অনুসরণ করে উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনগণের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান| বাংলাদেশে এই ধারার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষালয়গুলোর মাঝে দারুল উলূম হাটহাজারী, জামি‘আ কুরআনিয়া লালবাগ, জামি‘আ আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ ও জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া অন্যতম| যেহেতু এই মাদরাসাগুলো জনগণ তথা কওমের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হয়, তাই এগুলোকে কওমী মাদরাসা বলা হয়|
জামি‘আতুল আবরার আল-ইসলামিয়া টাঙ্গাইল
জামি‘আতুল আবরার আল-ইসলামিয়া টাঙ্গাইল এই ঐতিহ্যবাহী ধারারই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার একমাত্র লক্ষ টাঙ্গাইল জেলায়; পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সঠিক ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুনের ঐতিহ্যবাহী ধারাকে বেগবান করা|
এক নজরে জামি‘আ
প্রতিষ্ঠাতা: মুফতী সোহাইল দা.বা. ও তদীয় সহযোগীবৃন্দ
প্রতিষ্ঠাকাল: ১৪৩৭ হিজরী মোতাবেক ২০১৭ ঈসায়ী
প্রতিষ্ঠার স্থান: একোয়ার হাউজিং এস্টেট, আকুর টাকুর পাড়া, টাঙ্গাইল
স্থায়ী ভূমি: আবরার নগর, ধরের বাড়ী রোড, ইনায়েতপুর, টাঙ্গাইল ১৯০০
নামকরণ: জামি‘আর প্রধান মুরুব্বী মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. হযরতওয়ালা আবরারুল হক্ব হারদূঈ রহ. এর নামে জামি‘আর নামকরণ করেন|
বর্তমান বিভাগসমূহ: মক্তব, নাযেরা, হিফয, কিতাব বিভাগ ও ফাতাওয়া বিভাগ
জামি‘আর মুরুব্বীবৃন্দ:
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জামি‘আতুল আবরার আল-ইসলামিয়া টাঙ্গাইল মুহাম্মদপুরস্থ ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী বিদ্যপীঠ জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া ঢাকা‘র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে| প্রতি শিক্ষাবর্ষের সূচনায় জামি‘আ রাহমানিয়া‘র মুরুব্বীগণ সবক ইফতিতাহ করেন ও বিভিন্ন সময় সফর করে মু‘আয়ানাসহ জামি‘আর সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন|
জামি‘আর প্রধান মুরুব্বীদ্বয় হলেন:
শাহ আবরারুল হক্ব রহ. এর বিশিষ্ট খলীফা ও জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মুহাম্মাদপুর ঢাকা‘র প্রধান মুফতী ও শাইখুল হাদীস মুফতী মনসূরুল হক্ব দা.বা.|
শাহ আবরারুল হক্ব রহ. এর বিশিষ্ট খলীফা ও জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মুহাম্মাদপুর ঢাকা‘র মুহতামিম ও শাইখুল হাদীস, হযরত মুহাদ্দিস সাহেব হুযূর রহ. এর সুযোগ্য সাহেবযাদা আল্লামা হিফযুর রহমান মুমিনপুরী দা.বা.|